দুগ্ধ ব্যবসায় ইতিহাস আমূলের, ১ লক্ষ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে টেক্কা বিদেশি সংস্থাকে

ভারতীয় ডেয়ারি শিল্পের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল দেশের জনপ্রিয় সমবায় সংস্থা ‘আমূল’। গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার মোট টার্নওভার ১ লক্ষ কোটি টাকার ঐতিহাসিক গণ্ডি অতিক্রম করেছে। রবিবার গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন লিমিটেড (GCMMF) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করেছে। বিগত বছরের তুলনায় সংস্থার ব্যবসায় প্রায় ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে, যা সমবায় আন্দোলনের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আমূলের মোট টার্নওভার ছিল ৯০,০০০ কোটি টাকা। আধুনিক বাজার ব্যবস্থা ও গ্রাহকদের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত পরিবর্তনের ফলেই এক বছরের ব্যবধানে এই বিশাল অঙ্কের আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আমূলের ঝুলিতে ১২০০-র বেশি বৈচিত্র্যময় পণ্য রয়েছে। শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং গুণমানের ওপর ভিত্তি করেই বিশ্ববাজারে বড় বড় বিদেশি কো ম্পা নিগুলোকে কড়া টক্কর দিচ্ছে এই ভারতীয় ব্র্যান্ড।
এই বিশাল সাফল্যের কৃতিত্ব দেশের ৩৬ লক্ষ দুগ্ধচাষি ও কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার ওপর উৎসর্গ করেছেন GCMMF-এর চেয়ারম্যান অশোকভাই চৌধুরী। অন্যদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান গোবর্ধনভাই ধমেলিয়া এই অর্জনকে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে পৌঁছে যাচ্ছে আমূলের পণ্য। বিগত ৫১ বছর ধরে সাধারণ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করে চলার এই দীর্ঘ পথচলা আজ এক বিশ্বমানের ব্র্যান্ড হিসেবে পূর্ণতা পেল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ লক্ষ কোটির এই মাইলফলক কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার পথে এক শক্তিশালী নিদর্শন। সমবায় মানসিকতা বজায় রেখে যেভাবে আমূল বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে, তা আগামী দিনে দেশীয় ক্ষুদ্র উৎপাদকদের আরও অনুপ্রাণিত করবে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং লক্ষ লক্ষ কৃষকের কঠোর পরিশ্রমই আমূলকে আজ বিশ্বের দুগ্ধ মানচিত্রে শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।