নথি বিভ্রাটে স্বপ্না বর্মনের প্রার্থীপদ নিয়ে সংশয়, রাজগঞ্জে ফিরতে পারেন খগেশ্বর রায়

নথি বিভ্রাটে স্বপ্না বর্মনের প্রার্থীপদ নিয়ে সংশয়, রাজগঞ্জে ফিরতে পারেন খগেশ্বর রায়

রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বাছাই নিয়ে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের মনোনীত প্রার্থী তথা এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে শেষ মুহূর্তে বড়সড় আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা এনওসি (NOC) সংক্রান্ত সমস্যার কারণে স্বপ্নার প্রার্থীপদ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। সোমবারই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন, আর তার ঠিক আগেই এই ‘কাগজ বিভ্রাট’ রাজগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে।

এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের নাম। খগেশ্বর রায় দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তাঁকে নথিপত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে একসময় দল ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিলেও, বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় আত্মবিশ্বাসী বিদায়ী বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল সুযোগ দিলে পঞ্চম বারের মতো বিপুল ভোটে জয়ী হতে তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সোমবার মনোনয়ন পর্ব শেষ হলেই স্পষ্ট হবে রাজগঞ্জের আসল লড়াই কার সঙ্গে হবে।

বিজেপি অবশ্য এই পরিস্থিতিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে দেখছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই প্রার্থীপদ নির্ধারিত হয় এবং চাকরি ছেড়ে হুট করে নির্বাচনে লড়া সহজ নয়। পাল্টা জবাবে তৃণমূল নেতা শুভঙ্কর মিশ্র অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র সরকার তথা বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এনওসি আটকে রেখে স্বপ্না বর্মনকে চাপে ফেলার রাজনীতি করছে। বর্তমানে তৃণমূলের আইনজীবীরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং আইনি পথেই এই জট কাটানোর চেষ্টা চলছে।

রাজগঞ্জ এখন তাকিয়ে আছে আগামিকাল অর্থাৎ সোমবারের দিকে। একদিকে স্বপ্না বর্মনের খেলোয়াড় হিসেবে লড়াই আর অন্যদিকে অভিজ্ঞ রাজনীতিক খগেশ্বর রায়ের প্রত্যাবর্তন—এই দুইয়ের টানাপড়েনে সরগরম উত্তরবঙ্গ। স্বপ্নার ‘স্বপ্নভঙ্গ’ হবে নাকি শেষ মুহূর্তে আইনি গেরো কাটিয়ে তিনিই বাজিমাত করবেন, সেই উত্তর লুকিয়ে আছে কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষায়। তবে প্রার্থীর নাম শেষ মুহূর্তে বদলে গেলে তা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *