পাহাড়ের রাজনীতিতে নয়া মোড়, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা জিএনএলএফের
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। এবার পাহাড়ে নিজেদের জমি শক্ত করতে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (জিএনএলএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। পাহাড়ের তিনটি আসনেই গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে তারা। জিএনএলএফ এনডিএ-র অন্যতম পুরনো শরিক হওয়ায় তাদের এই সিদ্ধান্ত পাহাড়ের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানান জিএনএলএফ সভাপতি মন ঘিসিং। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট নির্বাচন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই বিজেপিকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘিসিংয়ের মতে, গোর্খা সম্প্রদায়ের সামগ্রিক স্বার্থরক্ষা এবং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এছাড়া গোর্খা জনজাতির জন্য একটি স্থায়ী সাংবিধানিক ব্যবস্থার দাবিকেও বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে তাঁর দল।
বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নীতিন নবীন জিএনএলএফ-এর কাছে সমর্থনের আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই পাহাড়ের বৃহত্তর স্বার্থে এই জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত। এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, ২০১৯ সাল থেকেই জিএনএলএফ এনডিএ জোটের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের এই অকুণ্ঠ সমর্থন পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে জোটের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। গোর্খা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রাজনৈতিক মেরুকরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জিএনএলএফ-এর এই সক্রিয় সমর্থন একদিকে যেমন বিজেপি শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে, অন্যদিকে তেমনই বিরোধী দলগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পাহাড়ের মানুষের রায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। সংবেদনশীল এই পার্বত্য অঞ্চলে ক্ষমতার লড়াইয়ে এই জোট কতটা নির্ণায়ক হয়ে ওঠে, তা ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট হবে।