‘বড়জোর ৬ মাস আয়ু’, মারণরোগের সেই ভয়াবহ দিনগুলি নিয়ে মুখ খুললেন যুবরাজ সিং

‘বড়জোর ৬ মাস আয়ু’, মারণরোগের সেই ভয়াবহ দিনগুলি নিয়ে মুখ খুললেন যুবরাজ সিং

২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের নায়কের জীবন এক নিমেষে বদলে গিয়েছিল ক্যানসারের থাবায়। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের জীবনের সেই কঠিনতম অধ্যায় নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন যুবরাজ সিং। তিনি জানান, কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় চিকিৎসকরা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর হাতে সময় আছে মেরেকেটে তিন থেকে ছয় মাস। বিশ্বকাপের সময় থেকেই প্রবল ক্লান্তি ও শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও যুবরাজ তখন কল্পনাও করতে পারেননি যে তাঁর শরীরে মারণরোগ বাসা বেঁধেছে।

যুবরাজ জানান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অবসরের পর টেস্ট ক্রিকেটে নিজের জায়গা পাকা করার জন্য তিনি দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন যখন সফল হতে শুরু করেছে, তখনই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসক নীতীশ রোহাতগি তাঁর স্ক্যান রিপোর্ট দেখে সতর্ক করে বলেন, টিউমারটি হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের মাঝে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রয়েছে। দ্রুত কেমোথেরাপি শুরু না করলে মৃত্যু অনিবার্য— এই কঠোর সত্য মেনে নেওয়া একজন ক্রীড়াবিদের জন্য পাহাড়ের চূড়া থেকে খাদে পড়ার মতো যন্ত্রণাদায়ক ছিল।

চিকিৎসার সেই দুঃসহ দিনগুলোতে শচীন তেন্ডুলকর ও অনিল কুম্বলের মতো সতীর্থরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ল্যাপটপে ক্রিকেটের ভিডিও দেখে যুবরাজ যখন বিচলিত হতেন, তখন কুম্বলে তাঁকে খেলা থেকে মন সরিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে পরামর্শ দিতেন। পরবর্তীতে আমেরিকায় দীর্ঘ এক বছরের যন্ত্রণাদায়ক কেমোথেরাপি ও লড়াই শেষে যুবরাজ আবার মাঠে ফেরেন।

ক্যানসার জয় করে ক্রিকেটে ফেরার সেই অদম্য জেদ যুবরাজের জীবনদর্শনই বদলে দিয়েছিল। তিনি জানান, শারীরিক সক্ষমতা আগের মতো না থাকলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরে তিনি ম্যান অফ দ্য ম্যাচও হয়েছিলেন। হার না মানা মানসিকতার জোরেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে তিনি প্রমাণ করেছেন যে জীবনযুদ্ধে জয় সম্ভব। নিজের অসুস্থতা কাটিয়ে ওঠার এই কাহিনী আজও অগুনতি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *