বিজেপি অফিসের সামনে বিস্ফোরণে পাকিস্তান কানেকশন! তদন্তে উঠে এল আইএসআই যোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য

গত ১ এপ্রিল চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৭-এ অবস্থিত বিজেপি অফিসের বাইরে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হামলার নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সমর্থিত একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। চণ্ডীগড়ের ডিজিপি ডঃ সাগর প্রীত হুডা এবং পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, এই নাশকতার মূল ছক কষা হয়েছিল বিদেশের মাটিতে। বিশেষ করে পর্তুগাল ও জার্মানিতে বসে থাকা ‘হ্যান্ডলাররা’ এই হামলার পুরো পরিকল্পনাটি নিয়ন্ত্রণ করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, পর্তুগাল ভিত্তিক হ্যান্ডলার বলজ্যোৎ সিং ওরফে ‘জোট’ স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পরিকল্পনা কার্যকর করে। পুলিশ জানিয়েছে, এই পুরো মডিউলটি ‘কাটআউট মডেলে’ কাজ করছিল। এর অর্থ হলো, বিস্ফোরক সরবরাহকারী, রেইকি করা ব্যক্তি এবং মূল হামলাকারীরা একে অপরের পরিচিত নয়। এই কৌশল মূলত ব্যবহার করা হয় যাতে একজন ধরা পড়লেও পুরো নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়া আসাম্ভব হয়ে পড়ে। অস্ত্র ও গ্রেনেডের বড় একটি চালান বেশ কয়েকটি হাত ঘুরে হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছিল বলে এআইজি দীপক পারেখ নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মোহালির স্টেট স্পেশাল অপারেশনস সেল (এসএসওসি) থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলো বলবিন্দর লাল, জসবীর সিং, চরণজিৎ সিং, রুবাল চৌহান এবং মনদীপ ওরফে অভিজ্যোৎ শর্মা। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে গুরতেজ সিং ও অমনপ্রীত সিং নামক আরও দুই অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে। বিদেশের মাটিতে বসে কারা এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, তা জানতে আন্তর্জাতিক স্তরে তদন্তের প্রস্তুতি চলছে।