বিয়েবাড়ির আনন্দে ট্রেনের আস্ত কামরা বুকিং

পরিবার ও পরিজনদের নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক অনন্য ‘বিবাহ অভিযান’-এর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে নেটিজেনদের একাংশ যেমন মুগ্ধ, তেমনই অন্য অংশ নাগরিক শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, একটি ভারতীয় পরিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ভারতীয় রেলের একটি আস্ত কামরা ভাড়া করে নিয়েছেন। ট্রেনের ভেতর নাচ-গান থেকে শুরু করে কেক কাটা—সব মিলিয়ে কামরাটি যেন একটি চলন্ত উৎসবের মঞ্চে পরিণত হয়েছিল।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কামরার প্রবেশপথে মালা পরিয়ে এবং পোস্টার টাঙিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। ভেতরে শিশু থেকে বৃদ্ধ, পরিবারের সকল সদস্যকেই মেতে উঠতে দেখা যায় লাগামছাড়া হুল্লোড়ে। এমনকি হবু কনেকে ট্রেনের ভেতরেই কেক কাটতে দেখা গিয়েছে। এই হইচইয়ের মাঝেই নিজের কর্তব্য পালন করতে দেখা যায় এক টিকিট পরীক্ষককে (TC), যাঁর মুখেও ছিল সৌজন্যের হাসি। নেটিজেনদের অনেকে এই যৌথ পরিবারের ঐক্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতির চিরাচরিত আনন্দের প্রশংসা করেছেন। জনৈক ব্যবহারকারীর মতে, পুরো পরিবার মিলে এভাবে ভ্রমণ করা এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
তবে এই উৎসবের উল্টো পিঠে জমা হয়েছে কিছু সমালোচনাও। অনেকেই ট্রেনের কামরায় এমন উচ্চস্বরে হইচই এবং হট্টগোল করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের মতে, সাধারণ যাত্রীরা যেখানে একটি আসনের জন্য হিমশিম খান, সেখানে ব্যক্তিগত উদযাপনের জন্য এমন আচরণ কতটা শোভনীয় তা নিয়ে বিতর্ক রয়ে যায়। তবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে রেলের নিয়ম বলছে, এটি একটি সম্পূর্ণ বৈধ পরিষেবা। ‘আইআরসিটিসি’ (IRCTC)-এর ফুল ট্যারিফ রেট বা এফটিআর (FTR) ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কেউ চাইলে পুরো ট্রেন বা নির্দিষ্ট কামরা ভাড়া করতে পারেন।
রেলের নিয়ম অনুযায়ী, ভ্রমণের অন্তত ছয় মাস আগে অনলাইনের মাধ্যমে বা প্রধান স্টেশনগুলোতে আবেদন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি কামরার জন্য প্রায় ৫০,০০০ টাকা করে সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা দিতে হয়। ফলে আইনিভাবে এই পরিবার কোনো নিয়ম লঙ্ঘন না করলেও, ট্রেনের মতো গণপরিবহনে ব্যক্তিগত উৎসবের সীমা কতটুকু হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নটিই এখন সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।