বুথ পাহারা দিলেও নেই ভোটাধিকার, ডিউটিতে একচুল নড়চড় করে না গোরুমারার কুনকি হাতিরা

বুথ পাহারা দিলেও নেই ভোটাধিকার, ডিউটিতে একচুল নড়চড় করে না গোরুমারার কুনকি হাতিরা

খাতায়-কলমে তারা সরকারি কর্মী এবং তাদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বরাদ্দও থাকে। অথচ ভোট দেওয়ার কোনো অধিকার নেই তাদের। গোরুমারা অভয়ারণ্যের মোতিরানি, রামী, কিরণরাজ, আমনা, শিলাবতী, হিলারি, তিস্তা ও সূর্য—এই কুনকি হাতিরা প্রতি নির্বাচনের মতোই এবারও নিঃশব্দে নিজেদের কর্তব্যে অবিচল। ভোটের দিন বুথ পাহারা দেওয়া থেকে শুরু করে দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা, কোনো কিছুতেই খামতি থাকে না এই গজরাজদের।

উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে এই কুনকি হাতিদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়। যখন সাধারণ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ব্যস্ত থাকেন, তখন বনের ভেতরে থাকা বুথগুলোতে কড়া নজরদারি চালায় এই বিশালদেহী সরকারি কর্মীরা। গোরুমারার এই হাতিরা নির্বাচনের দিন নিরাপত্তার দায়িত্বে এক মুহূর্তের জন্যও ঢিলেমি দেয় না। প্রশাসনের নির্দেশে অত্যন্ত শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তারা তাদের ‘ডিউটি’ সম্পন্ন করে।

পরিহাসের বিষয় হলো, গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করলেও, ব্যালট পেপারে কোনো ছাপ ফেলার সুযোগ হয় না তাদের। তবুও কোনো অভিযোগ বা ক্লান্তি ছাড়াই প্রতিটি নির্বাচনে অটল থাকে তিস্তা-সূর্যদের এই বাহিনী। ডুয়ার্সের গভীর জঙ্গলের ভেতরে অবস্থিত স্পর্শকাতর বুথগুলোতে ভোটারদের সুরক্ষা নিশ্চিতে এই কুনকি হাতিরাই প্রশাসনের অন্যতম ভরসা। অবলা এই প্রাণীদের কর্মদক্ষতা ও নিয়মানুবর্তিতা তাই আবারও খবরের শিরোনামে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *