বেঁচে থাকতেই কফিনে বন্দি! জাপানের এই ‘আজব খেলা’ কি সত্যিই শান্তি দিচ্ছে, না কি বাড়াচ্ছে বিপদ?

জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে শুরু হওয়া এক অদ্ভুত প্রবণতা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যার নাম ‘কফিন সেশন’। জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং মানসিক শান্তি খুঁজতে মানুষ এখন বেছে নিচ্ছেন কফিনের অন্ধকারকে। ২০২৪ সালে জাপানের একটি শতবর্ষী সৎকার সংস্থার হাত ধরে শুরু হওয়া এই পরিষেবা ২০২৬ সালে এসে বৈশ্বিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।
কফিন সেশন আসলে কী
কফিন সেশন মূলত একটি প্রতীকী অভিজ্ঞতা। যেখানে একজন জীবিত মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কফিনে শুয়ে থাকেন। আয়োজকদের মতে, এটি মানুষের কাছে এক ধরণের ‘পুনর্জন্মের’ অনুভূতি।
- কফিনের ভেতরে আধঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাটাতে হয়।
- গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী কফিনের ভেতর আয়না, প্রিয় ছবি বা বিশেষ আলোকসজ্জা থাকে।
- কেউ কেউ কফিনে শুয়ে গান শোনেন, আবার কেউ বেছে নেন সম্পূর্ণ নিস্তব্ধতা।
- সেশন শেষে কফিন থেকে বেরিয়ে আসাকে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা
জাপানের ‘ইনটু কফিন ক্যাফ’ বা থাইল্যান্ডের ‘মৃত্যু উৎসব’—সব জায়গাতেই মূল উদ্দেশ্য হলো নশ্বরতাকে অনুভব করা। অনেক অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, কফিনের ভেতর কাটানো সময় তাঁদের জীবনের মূল্য নতুন করে বুঝতে শিখিয়েছে। শ্মশান বৈরাগ্যের মতো এই অভিজ্ঞতা মানুষকে জীবনের অনিশ্চয়তা ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। স্থবির জীবনে গতি ফেরাতে অনেকে একে একধরণের ‘ধ্যান’ হিসেবেও দেখছেন।
মনোবিদদের সতর্কবার্তা ও প্রভাব বিশ্লেষণ
সাধারণ মানুষের কাছে এটি রোমাঞ্চকর মনে হলেও মনোবিদরা এই ‘আজব খেলা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এটি সবার জন্য ইতিবাচক নাও হতে পারে।
- মানসিক অস্থিরতা: মনোবিদ আবসি স্যামের মতে, মৃত্যু-সম্পর্কিত উদ্দীপনা মানুষের অবদমিত আবেগগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
- নেতিবাচক প্রভাব: বিশেষ করে যাঁরা আগে থেকেই হতাশায় ভুগছেন বা যাঁদের মধ্যে আত্মহত্যাপ্রবণতা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই সেশন বিপজ্জনক হতে পারে।
- একাকিত্বের ঝুঁকি: কফিনের অন্ধকার অনেকের মনে মূল্যহীনতা এবং একাকিত্বের অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে।
- এটি কোনো থেরাপি নয়: বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এটি কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি বা থেরাপি নয়। আবেগীয় সমর্থন ছাড়া এমন কর্মকাণ্ড মনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
থাইল্যান্ডের মতো দেশে মৃত্যুকে সম্মান জানানো একটি সাংস্কৃতিক রীতি। সেখানে মানুষ কফিনে শুয়ে নশ্বরতাকে শ্রদ্ধা জানায়। তবে এই রিটেইল থেরাপি বা অভিজ্ঞতামূলক ব্যবসা যখন বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে, তখন তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিরাপদ এবং পেশাদার তত্ত্বাবধান ছাড়া এই ধরণের সেশন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একঝলকে
- উৎস: ২০২৪ সালে জাপানে শুরু হয়ে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ডিং।
- মূল ধারণা: কফিনে শুয়ে জীবনের মূল্য উপলব্ধি এবং পুনর্জন্মের স্বাদ নেওয়া।
- প্রক্রিয়া: ৩০ মিনিটের সেশন, যেখানে কফিনের ভেতরে প্রিয় অনুষঙ্গ রাখার সুযোগ থাকে।
- ঝুঁকি: হতাশাগ্রস্ত ও আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তিদের জন্য এটি চরম মানসিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
- বিশেষজ্ঞ মত: এটি কোনো থেরাপি নয়, বরং একধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড।