ভারতের সেই রহস্যময় দ্বীপ যেখানে পা রাখলেই মৃত্যু অনিবার্য

ভারতের মানচিত্রে এমন এক দ্বীপ রয়েছে যেখানে প্রবেশ করা ভারতীয়দের জন্যও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের এই ‘নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড’ বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক স্থান হিসেবে পরিচিত। কেন এই দ্বীপে যাওয়া বারণ এবং কেন সরকার সেখানে জারি করেছে কড়া নিষেধাজ্ঞা? জেনে নিন তার নেপথ্যের রোমহর্ষক কাহিনী।
আদিম যুগের শেষ প্রতিনিধি: সেন্টিনেলি জনজাতি
এই দ্বীপে বসবাসকারী ‘সেন্টিনেলি’ উপজাতি প্রায় ৬০ হাজার বছর ধরে বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তারা আজও পাথরের যুগের মতো জীবনযাপন করে। কৃষি নয়, বরং শিকার ও সামুদ্রিক সম্পদের ওপর নির্ভর করেই তাদের টিকে থাকা। আধুনিক সভ্যতার কোনো ছোঁয়া আজও সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।
বাইরের জগতের প্রতি চরম আক্রোশ
সেন্টিনেলিরা বহিরাগতদের সহ্য করতে পারে না। কোনো নৌকা বা হেলিকপ্টার দ্বীপের কাছে গেলেই তারা তীর-ধনুক ও পাথর নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অতীতে বহুবার কৌতুহলী মানুষ বা মৎস্যজীবীরা এই দ্বীপে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি ২০০৪ সালের সুনামির পর ত্রাণ নিয়ে যাওয়া হেলিকপ্টারকেও তারা তীরের আঘাতে ফিরিয়ে দিয়েছিল।
সরকারের নিষেধাজ্ঞার আসল কারণ
ভারত সরকার ১৯৫৬ সালের এক বিশেষ আইনের মাধ্যমে এই দ্বীপে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এর প্রধান দুটি কারণ হলো:
- নিরাপদ দূরত্ব: বহিরাগতদের ওপর আদিবাসীদের প্রাণঘাতী আক্রমণ ঠেকানো।
- অস্তিত্ব রক্ষা: বাইরের মানুষের সাধারণ সর্দি-কাশিও এই জনজাতির জন্য মহামারী হয়ে দাঁড়াতে পারে, কারণ তাদের শরীরে আধুনিক রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই।
প্রকৃতির সন্তান ও কড়া নজরদারি
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এই জনজাতি অত্যন্ত দক্ষ। ২০০৪ সালের বিধ্বংসী সুনামিতেও তারা নিজেদের চিরাচরিত কৌশলে টিকে ছিল। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড নিয়মিত এই জলসীমায় টহল দেয় যাতে কোনো পর্যটক বা গবেষক ভুল করেও দ্বীপের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। সরকারের নীতি স্পষ্ট— ‘হস্তক্ষেপ নয়, কেবল সুরক্ষা’।