মাউন্ট কৈলাস: উচ্চতায় এভারেস্টের চেয়ে কম হলেও কেন আজও অপরাজেয় এই শৃঙ্গ?

মাউন্ট কৈলাস: উচ্চতায় এভারেস্টের চেয়ে কম হলেও কেন আজও অপরাজেয় এই শৃঙ্গ?

তিব্বতের পশ্চিমে অবস্থিত ৬,৬৩৮ মিটার উচ্চতার কৈলাস পর্বত আজও বিশ্বজুড়ে এক অমীমাংসিত রহস্য। মাউন্ট এভারেস্টের তুলনায় উচ্চতা অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো পর্বতারোহী এই পবিত্র শৃঙ্গে পা রাখতে পারেননি। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী এটি মহাদেব ও দেবী পার্বতীর আবাসস্থল, যা হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে গণ্য হয়। রাশিয়ার বিজ্ঞানী ডক্টর আর্নেস্ট মুল্ডাশেভ দাবি করেছিলেন, কৈলাস আসলে একটি প্রাচীন পিরামিড এবং এখানে সময়ের গতি অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত অনুভূত হয়।

অভিযাত্রীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কৈলাসে আরোহণের সময় শরীর ও মনে অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে। অনেকের দাবি, এখানে নখ ও চুল অস্বাভাবিক দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন অভিযানকে আসাম্ভব করে তোলে। সাইবেরিয়ার একদল অভিযাত্রী মাঝপথ থেকে ফিরে এসে জানিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তাদের বয়স কয়েক বছর বেড়ে গিয়েছিল। এছাড়া এই পর্বতের খাড়া ঢাল এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।

বর্তমানে চীন সরকার ধর্মীয় অনুভূতি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কৈলাসে আরোহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে। তীর্থযাত্রীরা কেবল পাদদেশের মানস সরোবর ও রাক্ষসতাল হ্রদ দর্শন এবং পর্বতটি প্রদক্ষিণ করার অনুমতি পান। এশিয়ার প্রধান চারটি নদীর উৎসস্থল এই পর্বতটি আজও মানুষের নাগালের বাইরে থেকে নিজের আধ্যাত্মিক গাম্ভীর্য ও প্রাকৃতিক নির্জনতা বজায় রেখেছে। আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বে কৈলাস আজও পৃথিবীর বুকে এক দুর্ভেদ্য ও রহস্যময় স্বর্গীয় ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *