যিশু খ্রিস্টের কাফনে ভারতীয় ডিএনএ, ২ হাজার বছরের পুরনো রহস্যে বিজ্ঞানীদের নতুন চাঞ্চল্য

যিশু খ্রিস্টের সমাধিকালে ব্যবহৃত পবিত্র বস্ত্র হিসেবে পরিচিত ‘তুরিনের কাফন’ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএনএ পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো এই রহস্যময় লিনেন কাপড়ে ভারতীয় যোগসূত্র রয়েছে। ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় এই পবিত্র বস্তুর সঙ্গে ভারতের গভীর সম্পর্কের প্রমাণ মিলেছে, যা বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে নতুন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৪.৪ মিটার লম্বা এই কাপড়ে পাওয়া মানুষের ডিএনএ-র উল্লেখযোগ্য অংশ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ১৯৭৮ সালে সংগৃহীত নমুনা পুনরায় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ডিএনএ-র প্রায় ৪০ শতাংশই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিজ্ঞানী জিয়ানি বারকাসিয়া ও তাঁর দলের মতে, প্রাচীনকালে রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে ভারতের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। সম্ভবত ভারত বা সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকেই এই উন্নতমানের লিনেন কাপড়টি আমদানি করা হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন যে, কাপড়টিতে মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের ডিএনএ উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শতাব্দীকাল ধরে বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশ ও মানুষের সংস্পর্শে আসার কারণে এই জৈবিক পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এই গবেষণাটি কাফনটির প্রকৃত পরিচয় নিয়ে চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ দেয় না, তবুও ভারতের সঙ্গে এর সংযোগ স্থাপন এক নতুন ঐতিহাসিক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ১৩৫৪ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আসা এই অমীমাংসিত ধাঁধাটি বিশ্বাস ও বিজ্ঞানের এক অনন্য সংমিশ্রণ হয়ে আজও টিকে আছে।