রাজ্যজুড়ে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় কমলা সতর্কতা জারি

টানা পাঁচ দিন দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অক্ষরেখার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। এর ফলেই আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকবে। ৫ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই ঝড়বৃষ্টির দাপট বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে বজ্রপাতসহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে মঙ্গলবার ও বুধবার মৎস্যজীবীদের পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে শুরু করে উত্তর বাংলাদেশ ও মেঘালয় হয়ে মণিপুর পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় বিশেষ রদবদল না হলেও, পরবর্তী চার দিনে রাজ্যের সব কটি জেলায় তাপমাত্রা ধাপে ধাপে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। ফলে তীব্র দাবদাহ থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় মাঝারি ধরনের বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকবে। দমকা হাওয়ার প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় জেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।