রাশিয়ার এস-৪০০ এর অর্ধেক খরচে তৈরি হচ্ছে ভারতের নিজস্ব প্রজেক্ট কুশা

রাশিয়ার এস-৪০০ এর অর্ধেক খরচে তৈরি হচ্ছে ভারতের নিজস্ব প্রজেক্ট কুশা

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘প্রজেক্ট কুশা’র কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) নির্মিত এই দূরপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাঁচটি স্কোয়াড্রন কেনার অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১,৭০০ কোটি টাকা। আধুনিক এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আকাশসীমাকে দুর্ভেদ্য করে তোলা। এর বিশেষত্ব হলো, প্রজেক্ট কুশার পরীক্ষা ও উৎপাদন একই সাথে চলছে, যা অত্যন্ত দ্রুত এটি মোতায়েনের ইঙ্গিত দেয়।

প্রজেক্ট কুশা তিনটি স্তরে শত্রু মোকাবিলা করতে সক্ষম। এর এম-১ ক্ষেপণাস্ত্র ১৫০ কিলোমিটার রেঞ্জে ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করতে পারে। এম-২ ক্ষেপণাস্ত্র ২৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা স্টিলথ বিমান এবং দ্রুতগতির লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় সক্ষম। অন্যদিকে, ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার এম-৩ ক্ষেপণাস্ত্র অ্যাওয়েকস (AWACS)-এর মতো বড় আকারের আকাশস্থ লক্ষ্যবস্তুকে নির্ভুলভাবে নিশানা করতে পারে। এর মাল্টি-ফাংশন কন্ট্রোল রাডার এবং ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ড্রোন ঝাঁক বা একসাথে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে অত্যন্ত কার্যকর। তথ্য অনুযায়ী, এর এক আঘাতে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতা ৮০ শতাংশের বেশি।

রাশিয়ার বিখ্যাত এস-৪০০ ব্যবস্থার তুলনায় প্রজেক্ট কুশা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। যেখানে এস-৪০০-এর পাঁচটি স্কোয়াড্রনের জন্য প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা খরচ হয়, সেখানে কুশার ক্ষেত্রে এই ব্যয় অর্ধেকেরও কম। একটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের দাম যেখানে ১০০ কোটি টাকা, সেখানে দেশীয় কুশা ক্ষেপণাস্ত্রের দাম পড়ছে মাত্র ৪০-৫০ কোটি টাকা। আর্থিক সাশ্রয়ের পাশাপাশি এই ব্যবস্থা ভারতকে পূর্ণ পরিচালনগত স্বাধীনতা দেবে। সোর্স কোড ও সফটওয়্যারের ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ থাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যেকোনো আপডেট বা পরিবর্তনের জন্য বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

বিদেশে তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সময় ‘কিল সুইচ’ বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি থাকে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কুশার ক্ষেত্রে নেই। শত্রু যদি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা নতুন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তবে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে এর রাডার ও ট্র্যাকিং সিস্টেম আপডেট করতে পারবেন। ফলে ভারতের এই নিজস্ব ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্টিলথ প্রযুক্তির মোকাবিলায় এক অপরাজেয় ঢাল হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। এটি কেবল ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং বিশ্ব বাজারেও একটি শক্তিশালী ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *