শান্তিনিকেতনের কালোর চায়ের দোকানে আড্ডার উত্তাপ অতীত, এখন ভগ্ন দেওয়ালে ভোট প্রচারের লড়াই

শান্তিনিকেতনের কালোর চায়ের দোকানে আড্ডার উত্তাপ অতীত, এখন ভগ্ন দেওয়ালে ভোট প্রচারের লড়াই

শান্তিনিকেতনের রতনপল্লির ঐতিহ্যবাহী ‘কালোর চায়ের দোকান’ এখন কেবলই এক টুকরো নস্টালজিয়া। একসময় যেখানে লেবু মেশানো লাল চায়ের কাপে ঝড় উঠত রাজনৈতিক তর্কে, আজ সেই আড্ডার পরিবেশ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে। দোকানের জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা দেওয়ালগুলো এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচার লিখনে ঢাকা পড়েছে। প্রাণবন্ত আলোচনার সেই পুরনো স্মৃতি মুছে গিয়ে সেখানে এখন চলছে নিঃশব্দ এক প্রচার যুদ্ধ।

এই দোকানের ইতিহাস অত্যন্ত সুপ্রাচীন ও গর্বের। ১৯১৮ সাল থেকে শান্তিনিকেতনের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই আড্ডাস্থল। ১৯৪০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং মহাত্মা গান্ধীকে এখানে নিয়ে এসেছিলেন চা পানের জন্য। এছাড়াও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামকিঙ্কর বেইজ থেকে শুরু করে অমর্ত্য সেনের মতো বহু গুণীজনের পদচারণায় মুখর থাকত এই দোকান। লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রবীণ আশ্রমিকদের রাজনৈতিক চর্চায় এই স্থানটি কার্যত কন্ট্রোল রুমে পরিণত হতো।

বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার পর দোকানটি আশ্রম প্রাঙ্গণ থেকে রতনপল্লিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ভুবনডাঙার বাসিন্দা কালিপদ দলুই ওরফে ‘কালো’র মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মদন দলুই কিছুদিন দোকানটি চালিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে দোকানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রবীণ বাসিন্দা শান্তভানু সেন ও সুব্রত সেন মজুমদারের আক্ষেপ, মাটির উনুন আর কাঠের বেঞ্চের সেই দিনগুলো আজ আর নেই।

বর্তমানে শান্তিনিকেতনের সেই ঐতিহ্যের বাহক এখন কেবলই স্মৃতির ভার বহন করছে। স্থানীয়দের মতে, দোকান না থাকলেও তার ভগ্ন কাঠামো আজও মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তবে আড্ডার উষ্ণতা হারিয়ে দেওয়ালে রাজনৈতিক পোস্টারের আধিপত্য এক পরিবর্তনশীল সময়েরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া সময়ের সেই গল্প আজ কেবল নীরব দেওয়াল লিখনেই সীমাবদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *