সন্তান প্রসবের পর কেন মায়েদের গঁদের লাড্ডু খাওয়ান বড়রা, জানলে অবাক হবেন আপনিও

সন্তান প্রসবের পর কেন মায়েদের গঁদের লাড্ডু খাওয়ান বড়রা, জানলে অবাক হবেন আপনিও

মা হওয়ার অনুভূতি প্রতিটি নারীর কাছেই অত্যন্ত স্পেশাল। তবে সন্তান জন্মদানের পর মায়ের শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। এই ধকল কাটিয়ে উঠতে এবং হারানো শক্তি ফিরে পেতে সঠিক পুষ্টির প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশে প্রাচীনকাল থেকেই দাদি-নানি বা শাশুড়ি মায়েরা প্রসূতি নারীদের আঠার লাড্ডু বা ‘গোন্দ কে লাড্ডু’ খাওয়ার পরামর্শ দেন। মূলত কিঁকর বা বাবলা গাছের আঠা দিয়ে তৈরি এই লাড্ডু পুষ্টিগুণে ভরপুর যা নতুন মায়ের দ্রুত সেরে ওঠায় জাদুর মতো কাজ করে।

সন্তান জন্মের পর নারীর মেরুদণ্ড ও হাড়ের সংযোগস্থল দুর্বল হয়ে যায়। আঠার লাড্ডুতে থাকা ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন হাড় মজবুত করতে এবং পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রসব-পরবর্তী সময়ে নারীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কমে যায়। এই লাড্ডু প্রাকৃতিক ইমিউনিটি বুস্টার হিসেবে কাজ করে এবং ঠান্ডা-কাশির মতো সাধারণ অসুখ থেকে দূরে রাখে। দেশি ঘি, শুকনো ফল এবং আঠা দিয়ে তৈরি এই খাবার শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালরি সরবরাহ করে।

শুধুমাত্র শারীরিক শক্তিই নয়, প্রসূতি নারীর ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতেও এই লাড্ডু কার্যকর। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং প্রসবের কারণে হওয়া ত্বকের ফ্যাকাসে ভাব দূর করে। আঠার লাড্ডু খাওয়ার পাশাপাশি এটি প্রতিদিন এক গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়েও সেবন করা যায়। বাজার থেকে কেনা বা ঘরে তৈরি— যেভাবেই হোক না কেন, মা ও শিশুর সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি আধুনিক সময়েও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও কার্যকরী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *