১৬ লক্ষ ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্টের জন্য বড় সুখবর, অভিন্ন বেতন কাঠামো নিয়ে বিশেষ খসড়া প্রকাশ করল আরবিআই

১৬ লক্ষ ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্টের জন্য বড় সুখবর, অভিন্ন বেতন কাঠামো নিয়ে বিশেষ খসড়া প্রকাশ করল আরবিআই

দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)। গ্রাম ও শহরতলিতে ব্যাংকিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া প্রায় ১৬ লক্ষ ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্ট বা বিসি-দের জন্য সোমবার একটি নতুন খসড়া নিয়ম প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নতুন প্রস্তাবনায় বিসি-দের কাজের চাপ ও দায়িত্ব অনুযায়ী দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংকে কমিশনের হার আলাদা হওয়ায় আয়ের যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করে পারিশ্রমিকে একরূপতা আনাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

রিজার্ভ ব্যাংকের এই খসড়া অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশন (IBA) একটি নির্দিষ্ট মাসিক বেতনের বেঞ্চমার্ক স্ট্রাকচার তৈরি করবে। এই কাঠামোটি বাইরের বিভিন্ন সূচকের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যার ফলে বিসি-দের আয় আরও স্থিতিশীল ও ন্যায্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে গ্রাহক সন্তুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ১৬ লক্ষেরও বেশি বিসি কাজ করছেন। আয়ের অনিশ্চয়তার কারণে অনেকের এই পেশা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নিয়মে বিসি নিয়োগের যোগ্যতার মানদণ্ড সহজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরবিআই, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বিভাগ, আইবিএ এবং নাবার্ড-এর কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই খসড়া তৈরি হয়েছে। ইতিপূর্বে ফেব্রুয়ারি মাসের মুদ্রানীতিতে এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে এই খসড়া প্রস্তাবের ওপর ব্যাংক ও সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে, যা আগামী ৫ মে, ২০২৬ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ ভারতে ব্যাংকিং পরিষেবা আরও নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার হয়ে উঠবে। ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্টদের বেতন কাঠামো সুনির্দিষ্ট হলে তারা আরও উৎসাহের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের প্রান্তিক মানুষের আর্থিক সেবার ওপর। তদন্ত ও চূড়ান্ত নিয়ম জারির পর এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত রূপরেখা জানা যাবে। বিসি-দের আয় বাড়লে প্রকারান্তরে গ্রামীণ অর্থনীতি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গতি ত্বরান্বিত হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *