২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন কার দখলে বাংলার মসনদ ভাগ্য, নির্ধারণ করবে এই ৫টি হাইভোল্টেজ কেন্দ্র
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভাগ্য নির্ধারিত হবে বাংলার। একদিকে রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে মসনদ দখলের লক্ষ্য নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়েছে বিজেপি। তবে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ৫টি বিশেষ বিধানসভা কেন্দ্র এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই আসনগুলির লড়াই দুই প্রধান শিবিরের কাছে নিছক জয়-পরাজয় নয়, বরং মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার নন্দীগ্রাম এবারও নজরে। গত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই গড় রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তৃণমূল এবার শুভেন্দুরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ নেতা পবিত্র করকে প্রার্থী করে বড় চমক দিয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় ভবানীপুরে এবার লড়াই অন্য মাত্রা পেয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পাশাপাশি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই কেন্দ্রেও প্রার্থী হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
মুর্শিদাবাদ সদর আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ভরসা শাওনী সিংহ রায়। পাশাপাশি কংগ্রেস এখানে সিদ্দিকি আলিকে প্রার্থী করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে। আবার কলকাতার যাদবপুর আসনে বামেদের পুনরুত্থানের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তৃণমূলের দেবব্রত মজুমদারের বিরুদ্ধে বিকাশের লড়াই বাম শিবিরের কাছে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রেল শহর খড়গপুর সদরে এবার লড়াই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের। নিজের পুরনো কেন্দ্র ফিরে পেতে বিজেপি-র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সরাসরি ময়দানে নেমেছেন, যেখানে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করছেন প্রদীপ সরকার। মূলত মোদী-শাহের উন্নয়ন ও হিন্দুত্ব ইস্যু বনাম মমতা-অভিষেকের জনমুখী প্রকল্প ও বাংলা ভাবাবেগের লড়াই এই পাঁচটি কেন্দ্রের ফলাফলেই প্রতিফলিত হবে। এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রগুলির জয়ই নির্ধারণ করবে আগামী পাঁচ বছর নবান্নের চাবিকাঠি কার হাতে থাকবে।