রক্তে নেই ভেদাভেদ, জাতপাতের শিকল ভেঙে এই গ্রাম গড়ল ইতিহাস

একবিংশ শতাব্দীতেও যখন জাতপাত আর ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে উত্তাল দেশ, ঠিক সেই সময়েই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার সৌদালা গ্রাম। কোনো রাজনৈতিক নেতার ভাষণ বা সরকারি নির্দেশে নয়, বরং গ্রামের একদল যুবকের হাত ধরেই এল এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আজ সৌদালা কেবল একটি গ্রামের নাম নয়, এটি দেশের প্রথম ‘জাতিমুক্ত গ্রাম’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
রক্তদানের মধ্য দিয়ে সূচিত মহাবিপ্লব
এই পরিবর্তনের শুরুটা হয়েছিল অত্যন্ত নিভৃতে। গ্রামের ১৫ জন যুবক, যারা বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির প্রতিনিধি, তারা একসঙ্গে রক্তদানের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট— মানুষের শরীরে প্রবাহিত রক্তের কোনো আলাদা জাত বা ধর্ম হয় না। এই ছোট উদ্যোগটিই গ্রামবাসীর মনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং ধীরে ধীরে এক বিশাল সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয়।
গ্রামসভার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
যুবকদের এই উদ্যোগের পর গ্রামের সরপঞ্চ শরৎ আরগড়ের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ গ্রামসভা আয়োজন করা হয়। ১৯৫৮ সালের মহারাষ্ট্র গ্রাম পঞ্চায়েত আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে গ্রামের প্রতিটি মানুষ একসুরে কণ্ঠ মেলান। প্রস্তাব ওঠে, এখন থেকে সৌদালা গ্রামে কোনো জাতিগত ভেদাভেদ থাকবে না। মানুষের পরিচয় হবে কেবল মানুষ হিসেবে। প্রমোদ ঝিঞ্জাড এবং বাবাসাহেব বোধকের মতো ব্যক্তিত্বদের সমর্থনে এই প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।
সৌদালা এখন সম্প্রীতির নতুন দিশারি
মহারাষ্ট্রের প্রথম ‘জাতিমুক্ত গ্রাম’ হিসেবে এখন থেকেই সৌদালার পথচলা শুরু। গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, জাতিগত বিভেদ ঘুচিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকলে উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে। যেখানে আজও দেশের অনেক প্রান্তে জাতপাতের নামে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়, সেখানে সৌদালার এই পদক্ষেপ গোটা ভারতের জন্য এক শক্তিশালী বার্তা। গ্রামসভা যে কেবল সরকারি প্রকল্পের আলোচনার জায়গা নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, তা হাতেকলমে প্রমাণ করে দিল আহমেদনগরের এই ছোট্ট গ্রাম।