আকাশ থেকে আমাজনের গহীন অরণ্যে, কিশোরী জুলিয়ানের অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার গল্প

১৯৭১ সালে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরী জুলিয়ান কোয়েপকে ১০,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে সরাসরি আমাজনের দুর্গম জঙ্গলে আছড়ে পড়েন। বিমানে থাকা ৯২ জন যাত্রীর মধ্যে একমাত্র তিনিই অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। ক্রিসমাসের আগে মায়ের সাথে বাবার কাছে যাওয়ার পথে মাঝ-আকাশে বজ্রপাতে তাদের বিমানটি খণ্ডবিখণ্ড হয়ে গিয়েছিল। একদিন অচেতন থাকার পর যখন তার জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে আমাজনের হিংস্র বন্য পরিবেশে সম্পূর্ণ একা আবিষ্কার করেন।
গভীর জঙ্গলে বেঁচে থাকার লড়াই ছিল অত্যন্ত কঠিন। সামান্য কিছু ক্যান্ডি খেয়ে এবং পিরানহা ও কুমির ভর্তি নদীপথ অনুসরণ করে তিনি এগিয়ে চলেন। নিজের ক্ষতে জন্মানো লার্ভা পরিষ্কার করতে তিনি ক্ষতস্থানে গ্যাসোলিন ঢেলে দিয়েছিলেন। মা-বাবার সাথে জঙ্গলে থাকার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে টানা এগারো দিন অসহায় অবস্থায় লড়াই চালিয়ে যান জুলিয়ান। অবশেষে একদল স্থানীয় কাঠুরিয়া তাকে খুঁজে পায় এবং উদ্ধার করে বাবার কাছে ফিরিয়ে দেয়।
জুলিয়ান কোয়েপকের এই রোমাঞ্চকর জীবনকাহিনি পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার এই অবিশ্বাস্য টিকে থাকার গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে এবং তিনি নিজে ‘হোয়েন আই ফেল ফ্রম দ্য স্কাই’ নামে একটি আত্মজীবনীও লিখেছেন। আজ তিনি বিশ্ববাসীর কাছে ‘আকাশ থেকে পড়া মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত, যার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহস মৃত্যুকে জয় করে তাকে সভ্য সমাজে ফিরিয়ে এনেছিল।