মেঘে ঢাকা পাহাড় আর মায়াবী ঝরনা! ঝাড়খণ্ডের এই ‘সুইজারল্যান্ড’ কি আপনার পরবর্তী ট্রাভেল ডেস্টিনেশন

মেঘে ঢাকা পাহাড় আর মায়াবী ঝরনা! ঝাড়খণ্ডের এই ‘সুইজারল্যান্ড’ কি আপনার পরবর্তী ট্রাভেল ডেস্টিনেশন

শহরের যান্ত্রিকতা আর কোলাহল থেকে দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে মন চাইছে? নীল আকাশ, পাহাড়ের গায়ে মেঘেদের লুকোচুরি আর দিগন্তজোড়া ঘন সবুজের হাতছানি নিয়ে আপনার অপেক্ষায় রয়েছে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা সীমান্তের এক লুকিয়ে থাকা স্বর্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৩০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত কিরিবুরু এবং মেঘাহাতুবুরু নামক এই যমজ শৈলশহরকে পর্যটকরা আদর করে ডাকেন ‘ঝাড়খণ্ডের সুইজারল্যান্ড’। যদি নিরিবিলি প্রকৃতির মাঝে কয়েকটা দিন কাটাতে চান, তবে এই উইকএন্ডেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন।

সারান্ডার অরণ্যে ঘেরা ‘৭০০ পাহাড়ের দেশ’

এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম শাল বন হিসেবে পরিচিত ‘সারান্ডা’ বনাঞ্চলের ঠিক কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি। স্থানীয়ভাবে একে ‘৭০০ পাহাড়ের দেশ’ বলা হয়। চারদিকে যতদূর চোখ যায়, শুধু ঘন অরণ্য আর পাহাড়ের সারি। মেঘাহাতুবুরুতে সারাবছর মেঘেদের আনাগোনা এবং অত্যধিক বৃষ্টিপাতের কারণে একে ‘ঝাড়খণ্ডের চেরাপুঞ্জি’ হিসেবেও তকমা দেওয়া হয়েছে। এখানকার বিশুদ্ধ বাতাস এবং অরণ্যের নিস্তব্ধতা আপনার যান্ত্রিক ক্লান্তি এক নিমিষেই দূর করে দেবে।

মায়াবী সূর্যোদয় আর রামধনু ঝরনার জাদু

কিটবুরু এবং মেঘাহাতুবুরু মূলত তাদের জাদুকরী সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের জন্য পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

  • মেঘাহাতুবুরু সানরাইজ পয়েন্ট: এখান থেকে মেঘের সমুদ্রের ওপর দিয়ে সূর্যের প্রথম আভা ফুটে ওঠার দৃশ্যটি আপনার সারাজীবন মনে থাকবে।
  • কিবুরু সানসেট পয়েন্ট: পাহাড়ের আড়ালে যখন রক্তিম সূর্য ঢলে পড়ে, তখন গোটা আকাশ যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতো মনে হয়।
  • রেইনবো ফলস ও কুমডি ড্যাম: পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা রেইনবো ফলস এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে ঝরনার জলের ঝাপটায় রামধনুর সাত রং আপনার চোখে পড়তে পারে। এছাড়া দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত শান্ত কুমডি ড্যামের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই অঞ্চলে অবস্থিত স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (SAIL)-এর বিশাল লৌহ আকরিক খনিগুলোও দেখার মতো। পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে খননকার্যের এই দৃশ্য শিল্প ও প্রকৃতির এক অদ্ভুত সহাবস্থান ফুটিয়ে তোলে।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময় ও যাতায়াত ব্যবস্থা

কিবুরু ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। তবে বর্ষাকালে মেঘেদের খেলা দেখতে চাইলে জুন থেকে আগস্টের মধ্যেও ঘুরে আসা যায়।

  • রেলপথ: নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন হলো বড়জামদা, যা এই শহর থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া টাটানগর স্টেশন থেকে ট্যাক্সি বা গাড়িতে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।
  • সড়কপথ: রাঁচি বা জামশেদপুর থেকে নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়ার ট্যাক্সিতে করে মনোরম পাহাড়ি পথ বেয়ে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন এই মেঘের রাজ্যে।

অজানাকে জানার নেশা আর প্রকৃতির নির্জনতা উপভোগ করতে চাইলে এই ছুটিতে ঝাড়খণ্ডের এই অনিন্দ্যসুন্দর পাহাড়ি জনপদে একবার ঢুঁ মেরে আসতেই পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *