আইপিএলে কি বাড়ছে দলের সংখ্যা? বিসিসিআই কর্মকর্তার মন্তব্যে শুরু তীব্র জল্পনা

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএল নিয়ে ক্রিকেট প্রেমীদের উন্মাদনার শেষ নেই। বর্তমানে ১০টি দলের এই টুর্নামেন্টে অদূর ভবিষ্যতে নতুন দলের অন্তর্ভুক্তি ঘটবে কি না, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ সিং ধুমল। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন দল এবং ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এক বিশেষ ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।
বিসিসিআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বছর আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেছে। সম্প্রতি রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মতো দলগুলোর আকাশচুম্বী বাজারমূল্য টুর্নামেন্টের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এই বাণিজ্যিক সাফল্যের কথা মাথায় রেখেই নতুন দল বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে ক্রিকেট মহলে।
তবে দল বা ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি। অরুণ ধুমল জানিয়েছেন, মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়টুকু আইপিএলের জন্য বরাদ্দ থাকে। জুন মাস থেকে ভারতের দক্ষিণ অংশে বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় টুর্নামেন্টের সময়সীমা বাড়ানো অত্যন্ত কঠিন। ফলে ম্যাচের সংখ্যা বর্তমানের ৭৪ থেকে বাড়িয়ে ৯৪ করা আপাতত প্রায় আসাম্ভব।
আইপিএল চেয়ারম্যানের মতে, টুর্নামেন্টের আয়তন বাড়াতে হলে অধিক সময়ের প্রয়োজন। বর্তমানে আইসিসি-র ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম বা এফটিপি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সূচি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। এই সীমাবদ্ধতার কারণে টুর্নামেন্টের সময়কাল বৃদ্ধি না করে নতুন দল যুক্ত করা সম্ভব নয় বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর স্বার্থের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে বোর্ডকে। অরুণ ধুমল জানিয়েছেন, কম সময়ের মধ্যে বেশি ম্যাচ আয়োজন করতে গেলে ‘ডাবল হেডার’ বা একদিনে দুটি ম্যাচের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এটি সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর জন্য লাভজনক নয়। তাই আর্থিক ও পরিকাঠামোগত দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পরিশেষে বলা যায়, আইপিএল বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হলেও দলের সংখ্যা বাড়ানো সম্পূর্ণভাবে আইসিসি-র সূচি এবং সময়ের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল। বিসিসিআই এখনই কোনো তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয়। আপাতত ১০টি দলের ফরম্যাটেই টুর্নামেন্টের মান বজায় রাখার দিকেই জোর দিচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।