আইপিএলে দল না পেলেও কয়েক ঘণ্টায় ৯ কোটি আয় স্টিভ স্মিথের

আইপিএল ২০২৬-এর নিলামে অবিক্রিত থেকে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। ২ কোটি টাকা ন্যূনতম মূল্য থাকা সত্ত্বেও ভারতের কোটিপতি লিগে কোনো দল তাঁকে কেনেনি। তবে মাঠের বাইরে ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে এই অজি ব্যাটারের। আইপিএল শুরুর মুখেই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৯ কোটি টাকা পকেটে পুরেছেন তিনি, যা তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিস্ময়কর এই আয়ের উৎস কোনো ক্রিকেটীয় চুক্তি নয়, বরং এক দশক আগের একটি দূরদর্শী বিনিয়োগ। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাট্রেস প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘কোয়ালা’-তে ১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (তৎকালীন মূল্যে প্রায় ৬৪ লক্ষ টাকা) বিনিয়োগ করেছিলেন স্মিথ। ওই সময় তিনি সংস্থাটির ১০ শতাংশ মালিকানা গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে সংস্থাটির ব্যবসায়িক শ্রীবৃদ্ধি ঘটলেও নতুন বিনিয়োগ না করায় স্মিথের অংশীদারি বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৩.৯ শতাংশে।
সম্প্রতি সংস্থাটির বার্ষিক আর্থিক হিসাব প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, স্মিথের সেই সামান্য বিনিয়োগ এখন মহীরুহ হয়েছে। মঙ্গলবার শেয়ার বাজার খোলার সময় তাঁর বিনিয়োগের মূল্য ছিল ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। কিন্তু দিনের শেষে সংস্থাটির শেয়ারের দাম প্রায় ১১.৭ শতাংশ লাফিয়ে বাড়লে সেই বিনিয়োগের বাজারমূল্য এক ধাক্কায় পৌঁছে যায় ৮৫ কোটি ১০ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্মিথের সম্পদের অঙ্ক বেড়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকা।
অংশীদারিত্ব কমলেও স্মিথ বর্তমানে এই সংস্থার চতুর্থ বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার। ক্রিকেটের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বুদ্ধিতেও যে তিনি সমান পারদর্শী, এই অভাবনীয় আয় তারই প্রমাণ দিচ্ছে। আইপিএল দলগুলোর কাছে ব্রাত্য হলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনি এখন আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।
মাঠের বাইরে কোটি কোটি টাকা আয় করলেও স্মিথ বর্তমানে ২২ গজ থেকেও দূরে নেই। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলছেন তিনি। বুধবার হায়দরাবাদ কিংসম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়ে ২০ বলে ৪৬ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। ৪টি ছক্কা ও ২টি চার সমৃদ্ধ এই ইনিংসটি প্রমাণ করে দেয় যে আইপিএলে সুযোগ না পেলেও তাঁর ব্যাটের ধার বিন্দুমাত্র কমেনি।