একই বছরে দুই তারকার সানশাইন ডবল জয়ের বিরল ইতিহাস

টেনিস দুনিয়ায় এখন শুধুই ইয়ানিক সিনারের জয়জয়কার। ইতালীয় এই তারকা মায়ামি ওপেনের ফাইনালে চেক প্রতিযোগী ইয়িরি লেহেচকাকে স্ট্রেট সেটে উড়িয়ে দিয়ে মেতে উঠলেন শিরোপা জয়ের উল্লাসে। বৃষ্টির বাধা বা প্রতিপক্ষের লড়াই— কোনো কিছুই সিনারের অশ্বমেধের ঘোড়াকে থামাতে পারেনি। ১০টি বিধ্বংসী এস আর অবিশ্বাস্য সার্ভিসের জাদুতে ৬-৪, ৬-৪ ফলে ম্যাচ পকেটে পুরে নিলেন তিনি। ২০১৭ সালে রজার ফেডেরারের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একটি সেটও না হেরে মায়ামিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়লেন সিনার। এই জয়ের ফলে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে ওঠার লড়াইয়ে কার্লোস আলকারাজকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিলেন এই ইতালীয় তারকা।
অন্যদিকে মহিলা বিভাগের ফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কার দাপটের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন আমেরিকার কোকো গফ। ঘরের মাঠে গফের জন্য গ্যালারি ফেটে পড়লেও সাবালেঙ্কার পাওয়ার টেনিসের কোনো জবাব ছিল না তাঁর কাছে। ২-৬, ৬-৪, ৩-৬ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সাবালেঙ্কা নাম লেখালেন স্টেফি গ্রাফ ও ইগা শিয়নটেকের মতো কিংবদন্তিদের তালিকায়। ব্যক্তিগত জীবনে বাগদান ও নতুন অতিথির আগমনের আবহে কোর্টের এই সাফল্য বেলারুশ সুন্দরীর মুকুটে যোগ করল নতুন পালক।
মায়ামির এই রাত টেনিস ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে কারণ ২০১৬ সালের পর এই প্রথম একই বছরে পুরুষ ও মহিলা— দুই বিভাগেই অর্জিত হলো ‘সানশাইন ডবল’। ইন্ডিয়ান ওয়েলসের পর মায়ামি জিতে সিনার ও সাবালেঙ্কা প্রমাণ করলেন যে হার্ডকোর্টে বর্তমান সময়ে তাঁদের হারানো প্রায় আসাম্ভব। হারলেও ভেঙে পড়েননি কোকো গফ। চোট সারিয়ে ফিরে ফাইনালে ওঠাকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এই মার্কিন কিশোরী। তবে আপাতত টেনিস বিশ্বের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন দুই নতুন ‘সানশাইন’ চ্যাম্পিয়ন।