ক্রিকেট ছেড়ে ধরেছিলেন লাঙল, আজ আইপিএলের দ্রুততম বোলার! অশোক শর্মার রূপকথাকেও হার মানানো গল্প

ক্রিকেট ছেড়ে ধরেছিলেন লাঙল, আজ আইপিএলের দ্রুততম বোলার! অশোক শর্মার রূপকথাকেও হার মানানো গল্প

আইপিএল এমন এক মঞ্চ যেখানে রাতারাতি ভাগ্য বদলে যায় বহু তরুণ ক্রিকেটারের। ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে তেমনই এক বিস্ময় বালকের উত্থান ঘটেছে, যার নাম অশোক শর্মা। গুজরাট টাইটানসের এই পেসার চলতি টুর্নামেন্টের দ্রুততম বলটি করে ক্রিকেট বিশ্বে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক কঠিন লড়াই এবং অনিশ্চয়তার দীর্ঘ ইতিহাস।

চাষজমি থেকে আইপিএলের বাইশ গজ

অশোক শর্মার ক্রিকেটে ফেরার গল্পটি বেশ নাটকীয়। জয়পুরের নিকটবর্তী রামপুরা গ্রাম থেকে আসা এই তরুণ এক সময় ক্রিকেট পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। করোনা মহামারীর ভয়াবহ সময়ে যখন বিশ্ব স্তব্ধ, তখন অশোক যে একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতেন, সেখানকার কোচের মৃত্যু হয়। প্রিয় গুরুর প্রয়াণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান। জীবন চালাতে বাবার সাথে নিজের গ্রামেই চাষবাসের কাজে যোগ দেন তিনি।

ভাগ্যের পরিবর্তন ও গতির জাদু

মাঠে লাঙ্গল চালানো অশোকের জীবনে মোড় ঘোরে একটি ‘ফাস্ট বোলার ট্যালেন্ট হান্ট’-এর মাধ্যমে। সেখানে নিজের বোলিংয়ের গতি দিয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি।

  • প্রথম ঝলক: ট্যালেন্ট হান্টে ১৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টার বেশি গতিতে বল করে রাজস্থান রয়্যালসের নজরে আসেন তিনি।
  • ট্রায়ালে চমক: রাজস্থান রয়্যালসের ট্রায়াল চলাকালীন এক ওভারেই সঞ্জু স্যামসন এবং জস বাটলারের মতো তারকাদের আউট করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।
  • আইপিএল চুক্তি: সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে রাজস্থানের হয়ে ২২ উইকেট নেওয়ার পর ৯ কোটি টাকার বিনিময়ে গুজরাট টাইটানস তাকে দলে নেয়।

টুর্নামেন্টের দ্রুততম ডেলিভারি

আইপিএল ২০২৬-এর অভিষেক ম্যাচে মাঠে নেমেই অশোক শর্মা ১৫৪.২ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে বল করে এবারের আসরের দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ড গড়েন। মারকো জানসেনকে আউট করে নিজের উইকেট খাতা খোলেন ২৩ বছর বয়সী এই পেসার। এর আগে ২০২৩ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং ২০২৫ সালে রাজস্থান রয়্যালসের স্কোয়াডে থাকলেও মূল একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। অবশেষে গুজরাটের জার্সিতে তার গতির ঝড় দেখার সুযোগ পেল ক্রিকেট বিশ্ব।

একঝলকে

  • খেলোয়াড়: অশোক শর্মা (গুজরাট টাইটানস)।
  • রেকর্ড: আইপিএল ২০২৬-এর দ্রুততম বল (১৫৪.২ কিমি/ঘণ্টা)।
  • অতীত: করোনার সময় ক্রিকেট ছেড়ে চাষবাস শুরু করেছিলেন।
  • সফলতা: সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে ২২ উইকেট।
  • নিলাম মূল্য: ৯ কোটি টাকা (মিনি অকশন)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *