ধোনির সেই ঐতিহাসিক ছক্কা ও ব্যাটের কোটি টাকার রহস্য জানলে চমকে যাবেন

আজ ২ এপ্রিল। ২০১১ সালের ঠিক এই দিনেই শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে দীর্ঘ ২৮ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মহেন্দ্র সিং ধোনির সেই গগনচুম্বী বিজয়সূচক ছক্কা আজও প্রত্যেক ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে। ধোনি শুধু ট্রফিই জেতাননি, বরং ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন যা আজও অম্লান।
২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে ধোনির সেই অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংসটি ছিল এক মাস্টারক্লাস। দ্রুত উইকেট হারানোর পর গৌতম গম্ভীর ও পরে যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান। শচীন তেন্ডুলকরের শেষ বিশ্বকাপে ধোনির সেই চওড়া ব্যাটে ভর করেই ট্রফি হাতে তুলেছিল টিম ইন্ডিয়া। সেই জয়ের কারিগর ধোনির ব্যবহৃত ব্যাটটির বর্তমান বাজারমূল্য শুনলে কপালে চোখ উঠতে বাধ্য।
ঐতিহাসিক সেই ছক্কাটি যে ব্যাট থেকে এসেছিল, পরবর্তীতে লন্ডনের একটি চ্যারিটি ডিনারে সেটির নিলাম করা হয়। সেই সময় ব্যাটটি প্রায় ৭২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করলে সেই ব্যাটের মূল্য এখন এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী এটি বিশ্বের অন্যতম দামী ক্রিকেট ব্যাট হিসেবে স্বীকৃত।
বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যে ছিল বেশ কিছু মজার সংস্কার। জানা যায়, টুর্নামেন্ট চলাকালীন শচীন তেন্ডুলকর সবসময় আগে বাঁ পায়ের প্যাড পরতেন। ফাইনাল ম্যাচে শচীন ও সেহওয়াগ দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার পর শচীন এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, তিনি সেহওয়াগকে ড্রেসিংরুমের আসন থেকে নড়তে দেননি। ধোনির সেই ছক্কা না আসা পর্যন্ত তারা একই জায়গায় বসেছিলেন এবং জয় নিশ্চিত হওয়ার পরই উৎসবে মেতে ওঠেন।
২০১১ সালের পর টিম ইন্ডিয়া একাধিক আইসিসি ট্রফি জিতলেও ওডিআই বিশ্বকাপের স্বাদ এখনও অধরা। ২০২৩ সালের ঘরের মাঠে ফাইনালে হার সমর্থকদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো হলেও ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারত সেই ১৬ বছরের খরা কাটাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। আজকের দিনে ধোনির সেই বীরত্বগাথা আজও কোটি কোটি ভারতীয়কে অনুপ্রেরণা জোগায়।