নাম নিলেন না বিরাট রোহিতের তবুও গম্ভীরের নিশানায় কারা? ড্রেসিংরুমে কেন চরম অস্বস্তি

ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এখন একটাই নাম আলোচনার কেন্দ্রে আর তিনি হলেন গৌতম গম্ভীর। দলের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের তথাকথিত ‘স্টার কালচার’ বা তারকা প্রথার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠার পর গম্ভীরের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি বিরাট কোহলি বা রোহিত শর্মার নাম নেননি, তবে তাঁর নিশানায় যে দলের মহাতারকারাই ছিলেন, তা বুঝতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের খুব একটা অসুবিধা হয়নি।
গৌতম গম্ভীর বরাবরই বিশ্বাস করেন ক্রিকেট কোনো একক ব্যক্তির খেলা নয়, বরং এটি এগারো জনের একটি দলগত লড়াই। গত কয়েক দশক ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে কোনো নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের সাফল্যকে যেভাবে মহিমান্বিত করা হয়, তার ঘোর বিরোধী গম্ভীর। সেমিফাইনালে ওঠার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতীয় ক্রিকেটে গত কয়েক বছর ধরে শুধুমাত্র কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির অবদান নিয়েই অতিরিক্ত মাতামাতি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের এটা বুঝতে হবে যে ক্রিকেট একটা টিম গেম। গত কয়েক বছর ধরে আমরা কেবল কয়েক জনের পারফরম্যান্স নিয়েই মেতে আছি। কিন্তু দিনশেষে এগারো জনের লড়াইয়েই ম্যাচ জেতা যায়।” উদাহরণের মাধ্যমে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি সঞ্জু স্যামসন ও শিবম দুবের ইনিংসের তুলনা টানেন। গম্ভীর জানান, “অনেকে হয়তো সঞ্জুর ৯০-৯৫ রানের প্রশংসা করছেন, কিন্তু আমার কাছে ওই রানটার সমান গুরুত্ব রয়েছে শিবম দুবের মারা ওই গুরুত্বপূর্ণ দুটি চারের। শিবম যদি ওই সময় ওই বাউন্ডারিগুলো না মারত, তবে হয়তো সঞ্জুর ৯৭ রান নিয়ে আজ কেউ কথাই বলতেন না। কারণ ম্যাচটাই জেতা হতো না।”
গম্ভীরের এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, তিনি দলের ছোট ছোট অবদানকেও সমান স্বীকৃতি দিতে চান। তাঁর মতে, কোনো বড় সেঞ্চুরি বা পাঁচ উইকেট নেওয়ার চেয়েও অনেক সময় ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় কোনো এক ফিল্ডারের রান আউট বা শেষ মুহূর্তে লোয়ার অর্ডারের তোলা ১০-১৫ রান। ভারতীয় দলে যখন বিরাট-রোহিত পরবর্তী যুগের প্রস্তুতি চলছে, তখন গম্ভীরের এই কড়া বার্তা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতায় বড়সড় বদল আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালের আগে কোচের এমন মন্তব্য দলের মধ্যে কোনো বিভেদ তৈরি করে নাকি ক্রিকেটারদের এককাট্টা করে তোলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে গম্ভীরের এই লড়াকু মানসিকতা এবং সবাইকে সমান চোখে দেখার নীতি যে ভারতীয় ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ বদলে দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।