‘বল দেখি, বোলার নয়,’ IPL-এ মারকাটারি ইনিংস নিয়ে মুখ খুললেন বৈভব

‘বল দেখি, বোলার নয়,’ IPL-এ মারকাটারি ইনিংস নিয়ে মুখ খুললেন বৈভব

আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ১৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) বিপক্ষে মাত্র ২৬ বলে ৭৮ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই ব্যাটার। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ তুর্কির মারকুটে ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে দুই ওভার বাকি থাকতেই ২০১ রানের লক্ষ্য অনায়াসেই টপকে যায় তার দল।

বোলার নয় বলই মূল লক্ষ্য

ম্যাচ শেষে নিজের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করেছেন বৈভব। তার মতে, ক্রিজে থাকার সময় বোলার কে বা তার খ্যাতি কতটুকু, তা নিয়ে তিনি মোটেও বিচলিত হন না। তার পুরো মনোযোগ থাকে কেবল ধেয়ে আসা বলের ওপর। বৈভবের ভাষায়, “বিপক্ষে জসপ্রীত বুমরাহ কিংবা জশ হ্যাজেলউডের মতো বিশ্বখ্যাত বোলার থাকলেও আমি তাদের নামের কথা চিন্তা করি না। আমার লক্ষ্য থাকে কেবল বলের গতি ও লাইনের ওপর।”

হ্যাজেলউডকে লক্ষ্য করে আগ্রাসী ব্যাটিং

এই ম্যাচে বিশেষ করে জশ হ্যাজেলউডের ওপর চড়াও হতে দেখা গেছে বৈভবকে। হ্যাজেলউডের ওভারে পরপর চার বলে তিনটি বাউন্ডারি এবং একটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ৩০০ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ৭টি ছক্কার মার। তার এই ভয়ডরহীন ব্যাটিং আরসিবির বোলারদের পুরোপুরি দিশেহারা করে দেয়।

সাফল্যের নেপথ্যে বাবা ও মেন্টর

এত অল্প বয়সে গ্ল্যামার ও খ্যাতির আলোয় চলে আসলেও বৈভব বেশ সংযত। তিনি জানান, তার এই উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন তার বাবা এবং সাপোর্ট স্টাফ সদস্য রোমি ভিন্দার। তারা নিয়মিত বৈভবকে মাটির কাছাকাছি থাকতে এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করেন।

ব্যক্তিগত আক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

দল জিতলেও নিজের ৭৮ রানে আউট হওয়া নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই বিস্ময় বালক। তিনি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থাকতে পারলে দলের জন্য আরও বাড়তি কিছু রান যোগ করতে পারতেন। তার এই হার না মানা মানসিকতা এবং বড় শট খেলার দক্ষতা ইতিমধ্যে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও মাইকেল ভনের মতো কিংবদন্তিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

একঝলকে

  • ব্যাটার: বৈভব সূর্যবংশী (১৫ বছর)।
  • দল: রাজস্থান রয়্যালস।
  • প্রতিপক্ষ: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
  • স্কোর: ২৬ বলে ৭৮ রান।
  • স্ট্রাইক রেট: ৩০০।
  • বাউন্ডারি: ৮টি চার ও ৭টি ছক্কা।
  • মূল মন্ত্র: বোলার নয়, বলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *