বিসিসিআইয়ের কাছে নরম সুর বিসিবির মুস্তাফিজুর বিতর্কের পর সম্পর্ক পুনর্গঠনে মরিয়া বাংলাদেশ

ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে এবার সমঝোতার পথে হাঁটল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্প্রতি বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বিসিবির পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের অধীনেই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, বিসিবি তাদের চিঠিতে দুই প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেটীয় বন্ধন আরও মজবুত করার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের অগস্টে স্থগিত হওয়া ছয় ম্যাচের সীমিত ওভারের সিরিজের বিষয়ে বিসিসিআইকে পুনরায় বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, এই সিরিজটি বর্তমানে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আয়োজিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে আসা নিয়ে নিরাপত্তার অজুহাতে আগে অনীহা প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ। এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল আইপিএল তারকা মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯.২০ কোটি টাকায় তাকে কিনলেও বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়তে হয়। এই ঘটনার পর থেকেই দুই বোর্ডের মধ্যে তিক্ততা বৃদ্ধি পায়।
আগামী ২০২৭ সালের এশিয়া কাপের আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে গিয়ে খেলার ব্যাপারে আসাম্মতি থাকলে এই টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কা বা দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ভেন্যু পরিবর্তন হলে বিসিবি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই বিসিসিআইয়ের সঙ্গে দূরত্ব মেটানোর চেষ্টা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা স্থগিত হওয়া সিরিজ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিসিসিআই বা বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালে তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে এই দুই দেশের। সাংবাদিক মহলে এখন নজর বিসিসিআই এই বার্তার প্রেক্ষিতে কী প্রতিক্রিয়া দেয়।