শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটকে বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের অন্দরমহলের কঙ্কালসার চেহারাটা যেন সামনে চলে এল। হারের গ্লানি মাথায় নিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেও, খোদ অধিনায়ক দাসুন শনাকার কণ্ঠে শোনা গেল চরম হতাশা এবং ক্ষোভ। বর্তমান পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন না হলে দ্বীপরাষ্ট্রের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে, সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল।
নেতিবাচক পরিবেশই কি হারের প্রধান কারণ?
অধিনায়ক শনাকার দাবি, দলের এই ভরাডুবির পেছনে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বাইরের ‘নেতিবাচক পরিবেশ’ বেশি দায়ী। তাঁর মতে, দলের চারপাশে এমন এক বিষাক্ত আবহাওয়া তৈরি হয়েছে যা ক্রিকেটারদের স্বাভাবিক খেলায় বাধা দিচ্ছে। ক্রমাগত সমালোচনা আর নেতিবাচক চর্চায় দলের মনোবল ভেঙে পড়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সরাসরি সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়, তবে এবার খোদ অধিনায়কই সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। শনাকা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এভাবে চলতে থাকলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের স্বার্থে এবং ক্রিকেটের মান ফেরাতে সরকারের কঠোর ও গঠনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন
হারের কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস নিয়েও মুখ খুলেছেন শনাকা। তিনি অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে লড়াই করার জন্য লঙ্কান ক্রিকেটারদের শারীরিক ফিটনেস আদর্শ মানের ছিল না। স্কিলের পাশাপাশি ফিটনেসের এই অভাবই যে দলকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
এখন দেখার বিষয়, অধিনায়কের এই আকুল আবেদনের পর শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড বা সরকার কোনো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, নাকি এভাবেই পতনের দিকে এগিয়ে যাবে একসময়ের বিশ্বজয়ী এই দলটি।