স্পেনের গোলপোস্টের নিচে কে? চার মহাতারকার লড়াইয়ে চরম বিপাকে কোচ ফুয়েন্তে

স্পেনের গোলপোস্টের নিচে কে? চার মহাতারকার লড়াইয়ে চরম বিপাকে কোচ ফুয়েন্তে

নিউজ ডেস্ক

সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ, আর তার আগেই এক অদ্ভুত ‘বিলাসবহুল’ সমস্যায় পড়েছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সমস্যাটি দলের দুর্বলতা নিয়ে নয়, বরং গোলপোস্টের নিচে কাকে দাঁড় করাবেন তা নিয়ে। দলে রয়েছেন চারজন বিশ্বমানের গোলকিপার, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সুযোগ পাবেন মাত্র একজন। আর্সেনালের ডেভিড রায়া, বিলবাওয়ের উনাই সিমন নাকি সোসাইদাদের রেমিরো— স্পেনের এক নম্বর জার্সি শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাচ্ছে?

সম্প্রতি প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী স্পেন। জোড়া গোল করে নায়ক বনে গেছেন মিকেল ওয়্যারজাবাল। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও ফুটবল মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্পেনের রক্ষণভাগ। বিশেষ করে গোলপোস্টের নিচে কোচের প্রথম পছন্দ কে হতে চলেছেন।

চার মহারথীর লড়াই

সাধারণত একটি আন্তর্জাতিক স্কোয়াডে তিনজন গোলকিপার থাকেন। কিন্তু এবার স্প্যানিশ বাহিনীতে লড়াই চলছে চারজনের মধ্যে। উনাই সিমন, ডেভিড রায়া এবং অ্যালেক্স রেমিরো— তিনজনই নিজ নিজ ক্লাবের হয়ে নিয়মিত এবং দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছেন উদীয়মান তারকা জোয়ান গার্সিয়া। নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচডে স্কোয়াডে জায়গা পাবেন মাত্র তিনজন। ফলে প্রতি ম্যাচেই একজনকে থাকতে হচ্ছে গ্যালারিতে, যেমনটা সার্বিয়ার বিরুদ্ধে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন গার্সিয়া।

এখনও এগিয়ে উনাই সিমন

বিশেষজ্ঞদের মতে, উনাই সিমনই এখনও কোচের তুরুপের তাস। গত কয়েক বছরে ইউরো এবং বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে তার ধারাবাহিকতা মুগ্ধ করেছে সবাইকে। কোচ ফুয়েন্তেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সিমনের ওপর তার আস্থা অটুট। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে রিয়াল সোসাইদাদের এই কিপারকেই বিশ্বকাপে স্পেনের এক নম্বর হিসেবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রায়া ও রেমিরোর চাপ

সিমনের দাপট থাকলেও ডেভিড রায়া ও অ্যালেক্স রেমিরোকে উপেক্ষা করা কঠিন। রায়া প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের হয়ে নিয়মিত খেলছেন এবং বল পায়ে তার দক্ষতা আধুনিক ফুটবলে অপরিহার্য। অন্যদিকে রেমিরো শুধু অভিজ্ঞই নন, ড্রেসিংরুমেও বেশ প্রভাবশালী। তরুণদের গাইড করার ক্ষমতার কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়াটা হবে ঝুঁকির কাজ।

ভবিষ্যতের কাণ্ডারি গার্সিয়া

সবচেয়ে বড় চমক জোয়ান গার্সিয়া। পরিসংখ্যান বলছে, শট ঠেকানোর দক্ষতায় তিনি বর্তমানে ইউরোপের সেরাদের একজন। কোচ ফুয়েন্তের দ্বিধা এখানেই— গার্সিয়া কি শুধুই ব্যাকআপ নাকি এখনই তাকে মূল দলে সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে? তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করলে দলের বর্তমান ভারসাম্য নষ্ট হবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্পেনের এই লড়াই কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শক্তির আধিক্য। বিশ্বের যেকোনো কোচ এমন ‘মাথাব্যথা’ পেতে চাইবেন যেখানে এক পজিশনের জন্য চারজন মহাতারকা তৈরি। তবে শেষ পর্যন্ত দস্তানা হাতে মাঠে নামবেন একজনই। আপাতত সেই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে উনাই সিমন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *