২০২৭ বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হার্দিক পান্ডিয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ দিল বিসিসিআই

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকায় হতে চলা এই টুর্নামেন্টের জন্য এখন থেকেই ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও নির্বাচকরা। সূত্রের খবর, ২০ জন সম্ভাব্য ক্রিকেটারের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে ভারতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াকে দলে জায়গা ধরে রাখতে বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এক কড়া শর্ত।
বোর্ড সূত্রে খবর, হার্দিককে ওয়ানডে ফরম্যাটে পুরো ১০ ওভার বোলিং করার মতো শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ২০১৯ সালে পিঠের অস্ত্রোপচারের পর থেকে তাঁর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, হার্দিক তাঁর খেলা ৮৮টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৮ বার পুরো ১০ ওভার বল করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ১৮টি ম্যাচই ছিল তাঁর অস্ত্রোপচারের আগের ঘটনা।
বোর্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার পেস-সহায়ক ও বাউন্সি উইকেটে হার্দিকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সব ম্যাচে হয়তো তাঁকে ১০ ওভার বল করতে হবে না, কিন্তু সেই ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি থাকা বাধ্যতামূলক। নির্বাচকদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে তাঁকে ছাড়াই বিশ্বকাপের পথে হাঁটতে পারে বোর্ড। বিকল্প হিসেবে তরুণ অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডির ওপর নজর রাখছেন নির্বাচকরা।
হার্দিক নিজেও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন। গতি বজায় রেখে ইনসুইং করানোর জন্য তিনি নিজের বোলিং অ্যাকশনে কিছু পরিবর্তন আনছেন এবং নিয়মিত ওয়ার্কলোড বাড়াচ্ছেন। টি-টোয়েন্টিতে নতুন বলে ইনিংস শুরুর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি নিজের হারানো ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিসিসিআই-এর এই কড়া বার্তায় স্পষ্ট যে, বড় মঞ্চে শুধুমাত্র ব্যাটার বা পার্ট-টাইম বোলার হিসেবে নয়, পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবেই হার্দিককে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
আগামী কয়েক মাস হার্দিকের জন্য অ্যাসিড টেস্ট হতে চলেছে। ২০২৭ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে সুযোগ পেতে নির্বাচকদের কাছে নিজের বোলিং ফিটনেস প্রমাণ করাই এখন তাঁর প্রধান কাজ। বোর্ড এবং টিম ম্যানেজমেন্টের কড়া মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পারফরম্যান্স ও ফিটনেসের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। ফলে হার্দিকের ভবিষ্যৎ এখন তাঁর নিজের বোলিং দক্ষতার ওপরই নির্ভর করছে।