আজ কলম্বোয় মহারণ, পাকিস্তান বধে প্রস্তুত ভারত

খেলব না, খেলব না করে নাটকের শেষ নেই পাকিস্তানের। পদ্মাপারে সাধারণ নির্বাচনের আগে দুম করে তাদের বাংলাদেশ প্রীতি সত্যিই চোখে লাগার মতো। আসলে শুধু যুদ্ধের নয়, ক্রিকেট ময়দানেও তারা ভারতের কাছে নেহাতই শিশু। তাই ১-৭ ব্যবধান না বাড়ানোর চেষ্টায় মহম্মদ আলি জিন্নার দেশ না খেলার অজুহাত খুঁজছিল। কিন্তু পরে সবদিক বিবেচনা করে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে দল নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। সালমান আগারা জানেন না যে, এভাবে সূর্যকুমার যাদব-ব্রিগেডের উপর চাপ সৃষ্টি করা আসাম্ভব। রবিবার কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে চিরশত্রু পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিতে তৈরি ঈশান কিষাণ-হার্দিক-বুমরাহরা। শুধুমাত্র ক্রিকেটাররাই নয়, পাকিস্তান বধে নজর আসমুদ্রহিমাচলের। প্রত্যেকের মনে ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এখনও টাটকা।
ভ্যালেন্টাইনস ডে’র গোলাপ লাল হয়ে গিয়েছিল ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের রক্তে। রবিবার প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে বিপক্ষকে চুরমার করে শহিদদের স্মৃতি তর্পণই সূর্যকুমার যাদবদের একমাত্র লক্ষ্য।
অতীতে ক্রিকেট মাঠে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব ছিল যথেষ্ট। কিন্তু এখন এই ম্যাচ জেতা টিম ইন্ডিয়ার কাছে জলভাত। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে আটবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। ভারত জিতেছে সাতটিতে। আর সান্ত্বনাসূচক একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। সুতরাং, বিরাট কোনো অঘটন না ঘটলে রবিবার ৮-১ হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
টি-২০ বিশ্বকাপের প্রথম দু’টি ম্যাচ জিতেছে দুই দলই। রবিবার জিতলে ভারতের গ্রুপ শীর্ষে থেকে সুপার এইটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া সূর্যের দলে ভারসাম্য অনেক বেশি। আট নম্বরে নামছেন অক্ষর প্যাটেল। ব্যাটিং গভীরতা বোঝাতে এটাই যথেষ্ট। শাহিন শাহ আফ্রিদির পেস এবং উসমান তারিকের ‘থেমে থেমে’ ডেলিভারির মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ভারত। আর বিপক্ষের মেরুদণ্ড ভাঙার জন্য তাল ঠুকছেন বুমরাহ-বরুণ চক্রবর্তীরা। এছাড়া গেম চেঞ্জার হিসেবে রয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া এবং শিবম দুবে। ভারতের ওপেনিং জুটি অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণ প্রত্যাশামাফিক খেলতে পারলে পাকিস্তানের কপালে দুঃখ নাচছে। তবে অবিসংবাদিত ফেভারিট হলে একটা সমস্যা সবসময় থেকে যায়। তা হল আত্মবিশ্বাস এবং আত্মতুষ্টির মধ্যে পার্থক্য ভুলে যাওয়া। কোচ গৌতম গম্ভীর তাই এই ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক। টি-২০ বিশ্বকাপ নিজেদের কাছে রেখে দিতে তিনি বদ্ধপরিকর।
কলম্বোয় অবশ্য রবিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ম্যাচের সময়ে সেই আশঙ্কা কম। প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান প্রথম দু’টি ম্যাচ খেলেছে। তাই পিচের অবস্থা সম্পর্কে তারা বেশি ওয়াকিবহাল। কিন্তু তা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ সূর্যরা। শনিবার রাত থেকেই হয়তো ‘গদর’ সিনেমায় সানি দেওলের সেই ডায়লগ তাঁদের রিংটোন, ‘ইতনে টুকরে করুঙ্গা কি পহেচানা নেহি যায়েগা!’