পাক ড্রেসিংরুমে ধুন্ধুমার কাণ্ড দেখেও চুপ বাবর! সুপার এইটের আগেই কি আড়াআড়ি বিভক্ত পাকিস্তান দল

পাক ড্রেসিংরুমে ধুন্ধুমার কাণ্ড দেখেও চুপ বাবর! সুপার এইটের আগেই কি আড়াআড়ি বিভক্ত পাকিস্তান দল

ভারতের বিরুদ্ধে হার দিয়ে শুরু করলেও নামিবিয়াকে ১০২ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। কিন্তু জয়ের আনন্দের মাঝেই পাক শিবিরের অন্দরমহলের এক চরম বিশৃঙ্খলা প্রকাশ্যে চলে এল। মাঠের বাইরের উত্তাপ এবার ড্রেসিংরুমের দেওয়াল টপকে ছড়িয়ে পড়ল জনসমক্ষে, যা নিয়ে এখন তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব।

কোচ ও অধিনায়কের নজিরবিহীন সংঘাত

নামিবিয়া ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় যাবতীয় নাটকের। ওপেনার সাইম আয়ুব মাত্র ১৪ রানে আউট হতেই মেজাজ হারান পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন। সূত্রের খবর, ড্রেসিংরুমে তিনি অধিনায়ক সালমান আলি আঘাকে লক্ষ্য করে কড়া মন্তব্য করেন। অধিনায়কও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন, হেসনের কথার পাল্টা জবাব দেন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, হেসন আঙুল উঁচিয়ে আঘাকে ধমক দিতে শুরু করেন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে সালমান আলি আঘা হাতে থাকা জলের বোতল সজোরে ছুড়ে ফেলে দেন। একজন পেশাদার কোচ এবং অধিনায়কের মধ্যে এমন প্রকাশ্য বিবাদ দেখে হতবাক হয়ে যান সেখানে উপস্থিত বাকি সদস্যরা।

বাবরের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

গোটা ঘটনার সময় ড্রেসিংরুমের মাঝের সারিতেই বসেছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক বাবর আজম। কোচ এবং বর্তমান অধিনায়কের মধ্যে যখন চরমে বাদানুবাদ চলছে, তখন বাবরকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে থাকতে। ভারতের কাছে হারের পর এমনিতেই বাবর ও শাহিন আফ্রিদির পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা তাঁদের দলে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। নামিবিয়া ম্যাচে বাবর একাদশে থাকলেও তাঁকে ব্যাটিং অর্ডারে নামানো হয়নি। নেটিজেনদের দাবি, ব্যাটিংয়ের সুযোগ না পেয়েই হয়তো বাবর কোনো মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেননি। সিনিয়য় ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর এই ‘মজা দেখার’ ভঙ্গি পাকিস্তান ক্রিকেটের ফাটলকেই আরও স্পষ্ট করে দিল।

অস্থির পাক শিবির ও আগামী চ্যালেঞ্জ

সুপার এইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চের আগে দলের এই ‘বেসুরো’ ছন্দ সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। একদিকে মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে কাটাছেঁড়া, অন্যদিকে কোচ-অধিনায়কের প্রকাশ্য ঝগড়া—সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) এখন চরম অস্বস্তিতে। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *