বিশ্বকাপের ভরাডুবিতে চরম ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়া বোর্ড! মার্শদের দেশে ফিরতেই শুরু হচ্ছে ফরেনসিক তদন্ত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের এমন অভাবনীয় বিদায় ক্রিকেট বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ওমানের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচে নামার আগেই নিজেদের বিদায়ঘণ্টা শুনে ফেলেছে অজিরা। আর এই ব্যর্থতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (CA)। শোনা যাচ্ছে, মিচেল মার্শরা দেশে পা রাখলেই তাঁদের পারফরম্যান্স নিয়ে শুরু হবে এক চুলচেরা এবং গভীর ব্যবচ্ছেদ, যাকে খোদ নির্বাচক টনি ডোডমেড ‘ফরেনসিক পর্যালোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২১ সালের বিশ্বজয়ী দলটির এবারের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। শ্রীলঙ্কা এবং জিম্বাবোয়ের মতো দলের কাছে হার সহ্য করতে হয়েছে তাদের। চোটের কবলে পড়ে মাঠের বাইরে ছিলেন জশ হেজলউড এবং প্যাট কামিন্সের মতো তারকারা। অন্যদিকে মিচেল স্টার্কের অবসর এবং অধিনায়ক মার্শের শারীরিক অসুস্থতা দলকে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু অজুহাত শুনতে নারাজ বোর্ড। নির্বাচক টনি ডোডমেড কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, “বিশ্বকাপের এই ফলাফল আমাদের কাছে চরম হতাশাজনক। ওমান ম্যাচ শেষ করে দল দেশে ফিরলেই আমরা প্রতিটি ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখব। এখানে আবেগের কোনো জায়গা নেই; বরং ফরেনসিকের মতো প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।”
আসলে এই কঠোর পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ২০২৬ সালে ঘরের মাঠেই বসবে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। তার আগে ২০২৭-এর ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২৮-এর অলিম্পিক ক্রিকেটকেও মাথায় রাখছে অজি বোর্ড। তাই বর্তমানের এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমূল পরিবর্তনের পথেই হাঁটতে চাইছে তারা। সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং নতুন রক্ত সঞ্চালনের বিষয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এই বিশেষ পর্যালোচনার পরেই।