ভারতের কাছে হারের ক্ষোভ মেটাতে গিয়ে কিংবদন্তিদের অপমান! মেজাজ হারাল পিসিবি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নামিবিয়ার মতো দুর্বল প্রতিপক্ষকে হারিয়ে যেন হাতে চাঁদ পেয়েছেন শাদাব খান। কিন্তু সেই জয়ের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে তিনি যে সীমারেখা অতিক্রম করবেন, তা হয়তো অতিবড় পাক সমর্থকও কল্পনা করেননি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারের ক্ষত যখন দগদগে, ঠিক তখনই ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম কিংবা শাহিদ আফ্রিদিদের মতো কিংবদন্তিদের কার্যত ‘অপমান’ করে বসলেন এই পাক অলরাউন্ডার। আর তার জেরেই এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কড়া রোষানলে পড়তে হলো তাঁকে।
ঠিক কী ঘটেছিল নামিবিয়া ম্যাচের পর?
চলতি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে লজ্জাজনক হারের পর থেকেই বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি এবং শাদাব খানদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তনীরা। শাহিদ আফ্রিদির মতো মহাতারকা তো সরাসরি তাঁদের দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন। বুধবার নামিবিয়াকে হারিয়েই যেন সেই সমালোচনার জবাব দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন শাদাব। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি সটান বলে বসেন, “প্রাক্তনরা অনেক বড় ক্রিকেটার হতে পারেন, কিন্তু তাঁরাও তো ভারতকে হারাতে পারেননি। আমরাই ২০২১ সালে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিলাম।”
শাদাবের এই মন্তব্য দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে। বাসিত আলি থেকে শুরু করে মহম্মদ আমির—প্রত্যেকেই শাদাবের এই ‘অহংকার’ নিয়ে তোপ দাগেন। তাঁদের মতে, নামিবিয়ার মতো ‘চুনোপুঁটি’ দলকে হারিয়েই শাদাব নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে ভাবতে শুরু করেছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
পিসিবির কড়া পদক্ষেপ এবং অন্দরমহলের খবর
গৃহযুদ্ধের এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে মহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন পাক বোর্ড। সূত্রের খবর, পাক দলের ম্যানেজার নাভিদ চিমার মাধ্যমে শাদাব খানকে কড়া সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। পিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে সংবাদ সম্মেলনে বা জনসমক্ষে মুখ খোলার সময় শাদাবকে শব্দচয়নে অনেক বেশি সংযত হতে হবে।
বোর্ডের এক শীর্ষ কর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “শাদাব ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি যাঁদের নিয়ে কথা বলছেন, তাঁরা এই দেশের ক্রিকেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এমনকি তাঁর নিজের শ্বশুর সাকলিন মুস্তাকও একজন কিংবদন্তি। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ইতিহাস টেনে এনে নিজের ব্যর্থতা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।”
কেন উত্তাল পাকিস্তান ক্রিকেট মহল?
শাদাবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বোর্ডের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, দলের মধ্যে এই শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলেও কেন শুধুমাত্র মৌখিক সতর্কবার্তায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে শাদাবকে? একদিকে মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব, অন্যদিকে সিনিয়রদের প্রতি অশ্রদ্ধা—সব মিলিয়ে পাকিস্তান শিবিরে এখন চরম অস্বস্তি। সুপার এইট নিশ্চিত হলেও, দলের অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরবর্তী ম্যাচে শাদাব খান তাঁর পারফরম্যান্স দিয়ে এই বিতর্কের অবসান ঘটাবেন নাকি আরও কোনও নতুন বিতর্কের জন্ম দেবেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে আপাতত পিসিবির ‘রেড কার্ড’ তাঁর ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে।