আসিফ নজরুলের মিথ্যে তথ্যে স্বপ্নভঙ্গ দুই ক্রিকেটারের পাঁচ দিনের ‘মানসিক কোমা’ নিয়ে বিস্ফোরক সালাউদ্দিন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে উত্তাল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন। প্রাক্তন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি তোপ দাগলেন জাতীয় দলের সহকারী কোচ মহম্মদ সালাউদ্দিন। তাঁর অভিযোগ, বিসিবি বা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের আজন্ম লালিত স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছেন নজরুল। এই সিদ্ধান্তের অভিঘাতে দলের অন্তত দুই ক্রিকেটার টানা পাঁচ দিন ‘মানসিক কোমা’য় ছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিজ্ঞ এই কোচ।
স্বপ্নের অপমৃত্যু এবং সালাউদ্দিনের ক্ষোভ
সালাউদ্দিনের মতে, একজন ক্রিকেটার হয়তো ২৭ বছর ধরে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখে। কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগের পর যখন সেই সুযোগ আসে, তখন হুট করে কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক হয়ে তিনি কীভাবে এমন ডাহা মিথ্যে কথা বলতে পারলেন, তা আমার মাথায় আসছে না। তিনি প্রকাশ্যে যা বলেছেন, তার ঠিক বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন।”
সালাউদ্দিন আরও যোগ করেন, “যদি এটা জাতীয় স্বার্থে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত হতো, তবে ক্রিকেটাররা অবশ্যই ত্যাগ স্বীকার করত। কিন্তু এখানে স্রেফ ব্যক্তিগত ইগো বা সিদ্ধান্তের কারণে ছেলেদের ক্যারিয়ারের বড় ক্ষতি করা হয়েছে।”
মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ক্রিকেটাররা
সহকারী কোচের দাবি অনুযায়ী, বিশ্বকাপ খেলতে না পারার খবরটি শোনার পর দলের ভেতর এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে দুই জন ক্রিকেটারের অবস্থা ছিল শোচনীয়। সালাউদ্দিনের ভাষায়, “কোচ হিসেবে আমি দেখেছি ওরা কতটা বিপর্যস্ত ছিল। প্রায় পাঁচ দিন ওরা মানসিকভাবে কোমায় ছিল। নিজেদের স্বাভাবিক রাখতে পারছিল না। আমরা যে ওদের শেষ পর্যন্ত মাঠে ফেরাতে পেরেছি, সেটাই বড় সাফল্য।”
তথ্যের অসঙ্গতি ও ‘লোক দেখানো’ বৈঠক
ঘটনার মূলে রয়েছে আসিফ নজরুলের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। গত ২২ জানুয়ারি তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটি অন্তর্বর্তী সরকারের। কিন্তু ঠিক কয়েকদিন পর ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বিসিবি এবং ক্রিকেটারদের।
সালাউদ্দিন এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, বোর্ড ও ক্রিকেটারদের নিয়ে যে বৈঠকটি করা হয়েছিল, তা ছিল স্রেফ ‘আইওয়াশ’ বা লোক দেখানো। সালাউদ্দিনের অভিযোগ, “উনি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে এসেছিলেন। সেখানে ক্রিকেটার বা বোর্ড কর্তাদের কিছু বলার সুযোগ ছিল না। ছেলেরা শুধু একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছিল। ওটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠক ছিল না, ছিল সিদ্ধান্ত জানানোর বৈঠক।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার ঠিক তিন দিনের মাথায় সালাউদ্দিনের এই বিস্ফোরক বয়ান বাংলাদেশের ক্রীড়া রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে আসিফ নজরুল কীভাবে এমন ‘মিথ্যাচার’ করলেন, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ক্রিকেট মহলে।