একুশ জন্ম পরেও তোমায় ভালোবাসবো, যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আবেগঘন বার্তা

একুশ জন্ম পরেও তোমায় ভালোবাসবো, যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আবেগঘন বার্তা

কলকাতা | শনিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সাক্ষী থাকল এক অনন্য আবেগের। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠের লড়াইয়ের মাঝেই গ্যালারি মাতল মাতৃভাষা দিবসের শ্রদ্ধার্পণে। লাল-হলুদ সমর্থকদের হাতে ধরা একটি ব্যানার কেড়ে নিল সব আলো, যেখানে লেখা ছিল— “বাংলা ভাষার টানে থাকি লাল-হলুদ জুড়ে, তোমায় ভালোবাসবো জানি একুশ জন্ম পরে।”

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি এভাবেই শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাল ইস্টবেঙ্গল জনতা। অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গের সঙ্গে নাড়ির টান থাকা এই ক্লাব সমর্থকদের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এক গভীর অস্তিত্বের লড়াই। গ্যালারিতে এদিন ফুটে ওঠে সেই চেনা বাঙাল আবেগ, যেখানে ফুটবল আর ভাষা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

ভাষার অপমানের বিরুদ্ধে বারবার গর্জে উঠেছে লাল-হলুদ

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বারবার সরব হয়েছেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। এর আগে ডুরান্ড কাপে যখন নামধারী স্পোর্টস অ্যাকাডেমির বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল, তখনও ভাষার অধিকার নিয়ে টিফো প্রদর্শন করেছিলেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে গ্যালারিতে লেখা হয়েছিল— “ভারত স্বাধীন করতে সেদিন পরেছিলাম ফাঁসি! মায়ের ভাষা বলছি বলে, আজকে বাংলাদেশী?” আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে এনআরসি ইস্যু, প্রতিটি সামাজিক লড়াইয়েই গ্যালারিকে প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে নজির গড়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড।

মাঠেও দাপট অব্যাহত

আবেগের পাশাপাশি এদিন মাঠের লড়াইয়েও ছিল টানটান উত্তেজনা। আইএসএলের চলতি মরসুমে প্রথম ম্যাচে বড় জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ছক কষেছিলেন কোচ। গ্যালারির এই অকুন্ঠ সমর্থন আর ভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা ফুটবলারদের বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে বলেই মনে করছে ফুটবল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *