বউবাজারের জলের ট্যাঙ্কে লুকানো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার পিলখানা প্রোমোটার খুনে পুলিশের বড় সাফল্য

বউবাজারের জলের ট্যাঙ্কে লুকানো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার পিলখানা প্রোমোটার খুনে পুলিশের বড় সাফল্য

হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার মহম্মদ শফিক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার বউবাজারের একটি বাড়িতে হানা দিয়ে খুনে ব্যবহৃত দুটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, ধৃত অভিযুক্ত মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্নার বাড়ির জলের ট্যাঙ্কে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এই মারণাস্ত্র ও দুটি ম্যাগাজিন। ধৃত মুন্নাকে দফায় দফায় জেরা করেই এই গোপন ডেরার হদিস পায় গোলাবাড়ি থানার পুলিশ।

মেটিয়াবুরুজ থেকে আরও এক গ্রেপ্তার তদন্তে নয়া মোড়

তদন্তের জাল গুটিয়ে আনতে শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ। পিলখানা খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হারুন খানের সহযোগী মহম্মদ আসলামকে মেটিয়াবুরুজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে প্রোমোটার খুনের ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪। পুলিশ সূত্রে খবর, আসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পলাতক মূল অভিযুক্ত হারুন এবং রাফাকাত ওরফে রোহিতের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পূর্ব পরিকল্পনামাফিক মহম্মদ শফিককে সরাতে এই গ্যাংটি একযোগে কাজ করেছিল।

ময়দানে সিআইডি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঘটনাস্থল

শুক্রবারই এই হাই-প্রোফাইল খুনের মামলার তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিয়েছে সিআইডি। শনিবার দুপুরে সিআইডির উচ্চপদস্থ কর্তাদের একটি দল পিলখানার সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান যেখানে শফিককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। তদন্তকারী আধিকারিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য সংগ্রহ করেন। সিআইডির ডিআইজি ইন্দ্র চক্রবর্তী জানিয়েছেন, মামলার সমস্ত কেস ডায়েরি ও নথিপত্র ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তির লক্ষ্যে সব ধরনের বৈজ্ঞানিক ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ জোগাড় করা হচ্ছে।

নেপথ্যে প্রোমোটিং বিবাদ নাকি পুরনো শত্রুতা

এখনও পর্যন্ত এই খুনের ঘটনায় মহম্মদ বিল্লাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না, দিলদার হোসেন এবং মহম্মদ আসলাম পুলিশের জালে ধরা পড়লেও মূল পান্ডা হারুন খান এখনও ফেরার। পিলখানার মতো জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় এমন দুঃসাহসিক খুনের নেপথ্যে প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিশাল কোনো আর্থিক লেনদেন নাকি দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত শত্রুতা কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। সিআইডি আধিকারিকদের বিশ্বাস, পলাতক মূল অভিযুক্তরা ধরা পড়লেই এই খুনের আসল মোটিভ এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ব্লু-প্রিন্ট সামনে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *