“কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ছাপ্পা ভোট করাবে বিজেপি!”— ভোটের মুখে বিস্ফোরক দাবি মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগের দিন এক রাজনৈতিক সভায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলি জেলার হরিপালের এক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভুয়া ভোট করানোর পরিকল্পনা করছে। তাঁর দাবি, এই বাহিনী বর্তমানে রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছে, যা দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
সতর্কবার্তা ও আইনি পরামর্শ
ভোটারদের বিশেষত মহিলাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেকিংয়ের নামে কোনো অনভিপ্রেত আচরণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পথ বেছে নিতে হবে। তবে কোনোভাবেই অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া বা সহিংসতায় জড়ানো যাবে না। পাশাপাশি তিনি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘সংখ্যালঘু সরকার’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, এই সরকার যে কোনো সময় পড়ে যেতে পারে।
এনআরসি আতঙ্ক ও ভোটাধিকার
সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোট না দিয়ে হজে যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁর মতে, ভোটাধিকার প্রয়োগ না করলে এনআরসি-র মাধ্যমে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র সফল হবে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ও হজের সূচি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের চাতুরির অভিযোগ তুলে তিনি সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে আগে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিজেপির প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে নির্ভয়ে নিজেদের ভোট প্রদান নিশ্চিত করাই এই বার্তার মূল লক্ষ্য। প্রথম দফার এই নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এক ঝলকে
কেন্দ্র সরকারকে ‘অস্থায়ী’ দাবি করে এনআরসি ইস্যুকে ফের জনসমক্ষে নিয়ে আসা।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে বিজেপি ভুয়া ভোট করাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ মমতার।
ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে হিংসার বদলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান।
ভোট না দিয়ে হজে না যাওয়ার জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ।