এক ফুল দো মালি! ত্রিকোণ প্রেমের ভয়ংকর পরিণতি

কলকাতা: তিলোত্তমার বুকে সাতসকালে চাঞ্চল্যকর রক্তক্ষয়ী সংঘাত। সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে বাস্তবের এই ঘটনা। ‘এক ফুল দো মালি’—অর্থাৎ এক যুবতীকে কেন্দ্র করে দুই যুবকের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত গড়াল রক্তাক্ত রণক্ষেত্রে। উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকায় নিজের ‘নতুন প্রেমিকা’র প্রাক্তন প্রেমিক ও তার দুই বন্ধুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল বর্তমান প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সুদীপ্ত মণ্ডলকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রেমের টানাপোড়েন থেকে রক্তারক্তি
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক জটিল প্রেমের সমীকরণ। উত্তর কলকাতার যোগেন দত্ত লেনের বাসিন্দা শুভজিৎ রায়ের সঙ্গে ডানলপ অঞ্চলের এক যুবতীর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু হঠাৎই সেই সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ ঘটে। অভিযুক্ত সুদীপ্ত মণ্ডলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ওই যুবতীর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুবতী তাঁর পুরনো প্রেমিক শুভজিতের চেয়ে সুদীপ্তকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেন।
বিষয়টি শুভজিতের নজরে আসতেই শুরু হয় তিক্ততা। পুরনো এবং নতুন—দুই প্রেমিকের মধ্যে শুরু হয় মনস্তাত্ত্বিক লড়াই। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে সুদীপ্ত এক চরম পরিকল্পনা করে। সে যুবতীকে দিয়ে শুভজিৎকে রবীন্দ্র সরণিতে ডেকে পাঠায়, যেন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যায়। কিন্তু আলোচনার আড়ালে যে খুনের নীল নকশা তৈরি ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি ওই তরুণী।
রাস্তার মাঝেই রণক্ষেত্র
শুভজিৎ তাঁর দুই বন্ধু রাজা সিং ও জিষ্ণুদীপ পোড়েলকে সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, দেখা হওয়া মাত্রই সুদীপ্ত গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পকেট থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে শুভজিতের ওপর। বন্ধুদের বাঁচাতে গিয়ে রাজা ও জিষ্ণুদীপও আক্রান্ত হন। প্রকাশ্য রাস্তায় তিনজনকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে সুদীপ্ত। রক্তাক্ত অবস্থায় শুভজিতের বন্ধু রাজা রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেপ্তার
ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত সুদীপ্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তিন যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জোড়াবাগান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে রাতেই তল্লাশি চালিয়ে ঘাতক প্রেমিক সুদীপ্ত মণ্ডলকে জালে তোলে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আক্রোশ থেকেই এই হামলা চালিয়েছে সে। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।