বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাকিস্তানে পালানোর ছক! ইউপিতে পুলিশের জালে দুই আইএসআই চর

ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর এক ভয়াবহ নাশকতামূলক পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ইউপি এটিএস)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়ডা থেকে তুষার চৌহান ওরফে ‘হিজবুল্লাহ আলি খান’ এবং সমীর খান নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শেহজাদ ভাট্টি এবং আবিদ জাটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখছিল। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মগজধোলাই ও নিয়োগ
তদন্তে জানা গেছে, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভারতীয় যুবকদের টার্গেট করছিল পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা। তুষার চৌহান ভাট্টির ভিডিও দেখে প্রলুব্ধ হয় এবং পরে সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। অন্যদিকে, সমীর খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ‘টিটিএইচ’ বা ‘তহরিক-ই-তালেবান হিন্দুস্তান’-এর মতাদর্শ প্রচার এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মূলত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অস্ত্র সরবরাহ করে ভারতে অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্য ছিল তাদের।
টার্গেট কিলিং ও সীমান্ত পার হওয়ার পরিকল্পনা
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে যে, ধৃতদের নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে গ্রেনেড হামলা এবং ‘টার্গেট কিলিং’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এই কাজের জন্য বড় অঙ্কের অর্থের টোপ দেওয়া হয় তুষারকে। হামলার পর দুবাই হয়ে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা। এই পুরো চক্রের পেছনে আইএসআই এজেন্ট মেজর হামিদ এবং মেজর আনোয়ারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (UAPA) এবং অস্ত্র আইনে মামলা করে পরবর্তী তদন্ত শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- নয়ডা থেকে আইএসআই সংশ্লিষ্ট দুই সন্দেহভাজন উগ্রবাদীকে গ্রেপ্তার করেছে ইউপি এটিএস।
- ধৃতরা পাকিস্তানি গ্যাংস্টারদের নির্দেশে ভারতে বিস্ফোরণ ও টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা করছিল।
- নাশকতার পর দুবাই হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার জন্য তুষারকে অর্থ ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
- সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ‘তহরিক-ই-তালেবান হিন্দুস্তান’ বা টিটিএইচ মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা চলছিল।