মাত্র ১৫ হাজার টাকার বলি! ৮ বছর পর মিলল বিচার, কাঠগড়ায় স্বর্ণময়ীর খুনিরা

মাত্র ১৫ হাজার টাকা পণ বাকি থাকায় গৃহবধূ স্বর্ণময়ী মণ্ডলের ওপর যে বর্বরোচিত অত্যাচার শুরু হয়েছিল, তার করুণ পরিণতি ঘটেছিল ২০১৮ সালে। বিয়ের মাত্র ৯ মাসের মাথায় স্বামীর বাড়িতেই আত্মঘাতী হতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে চুঁচূড়া আদালত ওই গৃহবধূর স্বামী সঞ্জিত রাজবংশী, শ্বশুর কৃষ্ণচন্দ্র রাজবংশী এবং শাশুড়ি ঝর্না রাজবংশীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
পণের দাবি ও নির্মম নির্যাতন
২০১৭ সালে মগরার স্বর্ণময়ীর সঙ্গে জিরাটের সঞ্জিতের বিয়েতে ৫০ হাজার টাকা পণ দাবি করা হয়েছিল। কনের পরিবার ৩৫ হাজার টাকা দিতে পারলেও বাকি ১৫ হাজার টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই স্বর্ণময়ীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নিগৃহীতার বাবা প্রশান্ত মণ্ডল বারবার বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি, বরং দিন দিন লাঞ্ছনা বাড়তে থাকে।
আদালতের রায় ও আইনি পর্যবেক্ষণ
হুগলি জেলা মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা সংক্রান্ত ধারায় মোট আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দের পেশ করা প্রমাণের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শুভ্রা ভৌমিক ভট্টাচার্য অভিযুক্ত তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করার নির্দেশ দেন। আগামী সোমবার এই মামলায় চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করবে আদালত।
এক ঝলকে
- পণের মাত্র ১৫ হাজার টাকার জন্য গৃহবধূ স্বর্ণময়ী মণ্ডলের ওপর শ্বশুরবাড়িতে অমানবিক নির্যাতন চলত।
- বিয়ের মাত্র ৯ মাসের মাথায় ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি আত্মঘাতী হন স্বর্ণময়ী।
- দীর্ঘ আট বছর পর অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত।
- আগামী সোমবার মামলার সাজা ঘোষণা করবেন বিচারক।