ইনস্টাগ্রামের মরণফাঁদে মূক-বধির যুবক! হোটেলে ডেকে নগ্ন করে নারকীয় অত্যাচার তরুণী ও তার প্রেমিকের

ইনস্টাগ্রামের মরণফাঁদে মূক-বধির যুবক! হোটেলে ডেকে নগ্ন করে নারকীয় অত্যাচার তরুণী ও তার প্রেমিকের

কেরালার কোच्चিতে হাড়হিম করা এক অপরাধের চিত্র প্রকাশ্যে এল যা শুনলে শিউরে উঠবে যে কেউ। সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুত্ব যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার প্রমাণ দিলেন কোল্লাম জেলার এক তরুণী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এক বিশেষভাবে সক্ষম (মূক ও বধির) যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর এবং সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার অভিযোগ উঠল এক তরুণী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে।

প্রেমের অভিনয় ও ভয়ঙ্কর ফাঁদ

তদন্তে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত যুবকের নাম অমল দেব। তিনি জন্মগতভাবেই কথা বলতে বা শুনতে পারেন না। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে সফনা নামে এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সফনা অত্যন্ত সুকৌশলে অমল দেবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং তাকে সরাসরি দেখা করার প্রস্তাব দেয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সফনার কথামতো পানামপিল্লি নগরের একটি হোটেলে পৌঁছান অমল। কিন্তু সেখানে পা রাখতেই তার জন্য অপেক্ষা করছিল এক নারকীয় অভিজ্ঞতা।

শয্যাসঙ্গী হওয়ার চাপ ও অমানবিক নির্যাতন

অমল ঘরে ঢোকা মাত্রই সফনার প্রেমিক এবং আরও দুই সহযোগী তাকে ঘিরে ধরে। পুলিশি সূত্রে খবর, ওই তরুণী যুবককে জোর করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। তাদের মূল পরিকল্পনা ছিল সেই দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে রাখা, যাতে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু অমল দেব এই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন।

লোহার রড ও টর্চলাইট দিয়ে যুবকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই দুষ্কৃতী দলটি। মারধরের চোটে অমলের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। তাকে নগ্ন করে ভিডিও তোলা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় যে, পুলিশকে জানালে এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হবে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই যুবক।

গ্রেফতারের পর অভিযুক্তের নির্লজ্জ আচরণ

ঘটনাটি জানাজানি হতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মূল অভিযুক্ত সফনা এবং তার প্রেমিকসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে গ্রেফতার হওয়ার পর সফনার আচরণ দেখে স্তম্ভিত খোদ দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখে বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত হওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে দম্ভের সঙ্গে হাসিমুখে পোজ দিয়ে সে বলতে থাকে, “আমার ছবিগুলো যেন ভালো আসে, ঠিক করে তুলুন।”

এই নির্লজ্জ আচরণের ভিডিও এখন নেটপাড়ায় আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। একজন বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা এবং অপরাধীর এই উদ্ধত মানসিকতা নিয়ে কেরলজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে কড়া ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *