ইরানের ওপর আমেরিকার আকাশছোঁয়া তাণ্ডব মহাপ্রলয়ের ভিডিও প্রকাশ করল মার্কিন সেন্টকম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এখন প্রলয়ংকরী রূপ নিয়েছে। ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ বাহিনীর নজিরবিহীন হামলার একটি হাড়হিম করা ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ (CENTCOM)। শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) শেয়ার করা এই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়ছে মার্কিন মিসাইল। একের পর এক ইরানি সামরিক পরিকাঠামো মুহূর্তের মধ্যে ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। মার্কিন রণতরী থেকে ক্রমাগত টমাহক মিসাইল উৎক্ষেপণ এবং বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ থেকে স্টিলথ ফাইটার জেটের গর্জন পুরো বিশ্বকে এক ভয়াবহ সংঘাতের বার্তা দিচ্ছে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, এই হামলা কোনো সাময়িক পদক্ষেপ নয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতা এবং শান্তি ফিরে আসছে, ততক্ষণ এই ‘নন-স্টপ’ বোমাবর্ষণ চলতে থাকবে। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের শাসাকগোষ্ঠীকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে, আর এখন সেই হঠকারিতার মূল্য দিতে হচ্ছে তাদের। ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা হলো, প্রয়োজনে আগামী এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে এই আক্রমণ অব্যাহত রাখা হবে।
ইরানের পাল্টা অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিস ৪
আমেরিকার এই বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। তেহরান পালটা ‘অপারেশন ট্রুথফুল প্রমিস ৪’ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে কয়েকশ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) সদর দপ্তরকেও ইরান লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এই পালটা হামলার ফলে কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলোতে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং সেখানকার মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে রক্ষায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও বিমান পরিষেবায় চরম সংকট
এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর দিয়ে বিমান চলাচল আসাম্ভব হয়ে পড়ায় একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। দিল্লির আইজিআই (IGI) বিমানবন্দরসহ বিশ্বের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে কয়েক হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন। আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের মতো দেশগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে পণ্য আমদানির পথও কার্যত রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সব মিলিয়ে, এক অনিশ্চিত এবং ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি।
The Iranian regime was warned. CENTCOM is now delivering swift and decisive action as directed. pic.twitter.com/nNDoDexH6g
— U.S. Central Command (@CENTCOM) March 1, 2026