বিশ্বের পাতে ভারতের জয়জয়কার! ৭২,০০০ কোটির রেকর্ড ছুঁল সি-ফুড রপ্তানি

ভারত বিশ্ব সামুদ্রিক খাবারের বাজারে নিজের আধিপত্য বজায় রেখে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রফতানির সব পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি ৭২,০০০ কোটি টাকার ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এটি কেবল দেশের অর্থনীতির জন্য বড় জয় নয়, বরং ভারতের ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও একটি বিশাল পদক্ষেপ। বর্তমানে আমেরিকা, চীন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর বাজারে ভারতীয় চিংড়ির চাহিদা আকাশচুম্বী।
রফতানির আসল সুপারস্টার
ভারতের এই বিশাল রফতানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে হিমায়িত চিংড়ি থেকে, যার অংশীদারিত্ব মোট রফতানির প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ। উন্নত গুণমান, স্বাদ এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে বিশ্ববাজারে ভারতীয় চিংড়ি আজ অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আমেরিকা ভারতের চিংড়ির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে, পাশাপাশি চীনের বাজারেও ভারতীয় সামুদ্রিক পণ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। চিংড়ি ছাড়াও হিমায়িত মাছ, স্কুইড এবং কাটলফিশের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সরকারি উদ্যোগ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ এবং আধুনিক মৎস্য চাষের পরিকাঠামো উন্নয়ন। কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা এবং প্রসেসিং ইউনিটগুলোর আধুনিকীকরণের ফলে ভারতীয় সামুদ্রিক খাবারের গুণমান আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও গুজরাটের মতো উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে চিংড়ি চাষ এখন একটি বৃহৎ শিল্পের রূপ নিয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতির সঞ্চার করার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছে। ভিয়েতনাম বা ইকুয়েডরের মতো দেশগুলোর সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও ভারতের এই ক্রমবর্ধমান রফতানি ধারা ভবিষ্যতে ১ লক্ষ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এক ঝলকে
- ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ভারতের সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি রেকর্ড ৭২,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
- মোট রফতানির সিংহভাগ (৭০ শতাংশ পর্যন্ত) এসেছে হিমায়িত চিংড়ি বিক্রয় থেকে।
- আমেরিকা ও চীন ভারতীয় সামুদ্রিক খাবারের প্রধান আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
- সরকারি নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় উপকূলীয় রাজ্যগুলোর গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।