অন্ধকারে বুনো হাতির সঙ্গে বাইকের ভয়াবহ সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডে প্রাণ গেল দুই যুবকের

অন্ধকারে বুনো হাতির সঙ্গে বাইকের ভয়াবহ সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডে প্রাণ গেল দুই যুবকের

উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার টাণ্ডা অরণ্যে শনিবার রাতে এক শিউরে ওঠা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। বনের বুক চিরে যাওয়া অন্ধকার রাস্তায় দ্রুতগতিতে বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই বিশালাকায় এক হাতির সামনে পড়ে যান দুই যুবক। বুনো হাতির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের।

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই যুবকের নাম শাকিল (২৬) ও জাফর (২৮)। তাঁরা মূলত উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে হলদ্বাণীর গফুর বস্তিতে থেকে হকারির কাজ করতেন। শনিবার রাতে হলদ্বাণী থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে রুদ্রপুরে যাওয়ার পথে রামপুর রোডে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তদন্তকারীদের অনুমান, ঘুটঘুটে অন্ধকারে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা হাতিটিকে হয়তো দেখতে পাননি বাইক চালক। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি হাতির গায়ে আছড়ে পড়ে বাইকটি।

উদ্ধার ও চিকিৎসকের বক্তব্য

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। হলদ্বাণীর পুলিশ সুপার মনোজ কাত্যায়াল জানিয়েছেন, রক্তাক্ত অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং অন্যজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তরাই সেন্ট্রাল ডিভিশনের ডিএফও উমেশ চন্দ্র তিওয়ারি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আসার পরেই স্পষ্ট হবে যে মৃত্যুটি স্রেফ ধাক্কার অভিঘাতে হয়েছে নাকি হাতিটি পরবর্তীতে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।

বিপজ্জনক এলিফ্যান্ট করিডোর

বন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, রামপুর রোডের যে অংশে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি একটি চিহ্নিত ‘এলিফ্যান্ট করিডোর’ বা হাতিদের চলাচলের পথ। উত্তরাখণ্ডে হাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকালয় এবং বন সংলগ্ন রাস্তায় বন্যপ্রাণের আনাগোনা বেড়েছে। ২০০৭ সালে রাজ্যে হাতির সংখ্যা যেখানে ১৩৪৬ ছিল, ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৯২-এ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *