‘পাকিস্তান ধারেকাছেও নেই, ভারতের হাতেই আমেরিকার ভবিষ্যৎ’, ট্রাম্পের পাক-প্রীতির মাঝে বিস্ফোরক প্রাক্তন মার্কিন মন্ত্রী!

দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ মূলত ভারতের সঙ্গেই যুক্ত। ক্যাম্পবেলের মতে, ভারতের সঙ্গে বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক ‘বড় অক্ষরে’ লেখার মতো অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে পাকিস্তানের অবস্থান নগণ্য। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নয়াদিল্লিই আমেরিকার প্রধান কৌশলগত অংশীদার।
ট্রাম্পের অবস্থান বনাম মার্কিন কৌশল
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রতি তাঁর ক্রমাগত প্রশংসা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে। ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা এবং দেশটিতে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে অনেকেই বাঁকা চোখে দেখছেন। প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব দেখালেও, বর্তমানে ট্রাম্পের এই ‘পাকিস্তান প্রীতি’ আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান ভারতের সঙ্গে আমেরিকার মজবুত সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে। ক্যাম্পবেলের মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প যদি পাকিস্তানের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়েন, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার এতদিনের গড়ে তোলা ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। ভারত বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায়, সেই সম্পর্ককে উপেক্ষা করে পাকিস্তানের দিকে হাত বাড়ানো আমেরিকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এক ঝলকে
- সাবেক মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেলের মতে আমেরিকার ভবিষ্যৎ ভারতের সাথেই জড়িত।
- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন।
- ট্রাম্পের এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তন ওয়াশিংটনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
- দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভারতকেই প্রধান শক্তি মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ মহল।