পাহাড়ের সমীকরণে বড় রদবদল: জিএনএলএফ-কে সরিয়ে গুরুং শিবিরের ওপরই ভরসা বিজেপির

পাহাড়ের সমীকরণে বড় রদবদল: জিএনএলএফ-কে সরিয়ে গুরুং শিবিরের ওপরই ভরসা বিজেপির

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিল বিজেপি। দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জিএনএলএফ-কে প্রার্থী তালিকায় ব্রাত্য রেখে এবার বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকেই বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে গেরুয়া শিবির। দার্জিলিং কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক নীরজ জিম্বার পরিবর্তে মোর্চার নমন রাইকে পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পাহাড়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে গুরুংয়ের সাংগঠনিক শক্তির ওপরই এখন বেশি আস্থাশীল বিজেপি নেতৃত্ব।

বাকি দুই আসন কার্শিয়াং ও কালিম্পংয়েও চমক দিয়েছে বিজেপি। সম্প্রতি প্রাক্তন বিধায়ক বিষ্ণু প্রসাদ শর্মা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে কার্শিয়াং আসনে সোনম লামাকে এবং কালিম্পংয়ে ভরত ছেত্রীকে ময়দানে নামানো হয়েছে। ২০১৯-এর উপনির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে জিএনএলএফ প্রার্থীরা বিজেপির সমর্থনে বড় সাফল্য পেলেও, এবার তাঁদের কোনো টিকিট না দেওয়া নিয়ে দলের অন্দরেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

এই প্রার্থী ঘোষণার ফলে পাহাড়ে লড়াই এখন মূলত দ্বিমুখী। একদিকে অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা (BGPM), অন্যদিকে বিজেপির গোর্খা সেন্টিমেন্ট ও মোর্চার সম্মিলিত শক্তি। তৃণমূলের জোটসঙ্গী অনীত থাপার উন্নয়নের দাবির পালটা দিতে বিজেপি এবার বিমল গুরুংয়ের সঙ্গে সদ্ভাব বাড়িয়ে পাহাড় পুনর্দখলের কৌশল নিয়েছে। এখন দেখার, দার্জিলিংয়ের এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ভোটের বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *