তৃণমূলের গড় টার্গেট করে পুনর্নির্বাচনের ছক? জঙ্গলমহল থেকে বিজেপির ‘গেরুয়া চক্রান্ত’ ফাঁস করলেন মমতা

নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে কি বাংলার ভোট লুঠের চেষ্টা চলছে? রবিবার পুরুলিয়ার মানবাজারের জনসভা থেকে এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, যেখানে যেখানে তৃণমূল শক্তিশালী, ঠিক সেই জায়গাগুলি বেছে নিয়েই পুনর্নির্বাচন করানোর নীল নকশা তৈরি করেছে বিজেপি। দিল্লির অঙ্গুলিহেলনেই কি তবে গণতন্ত্র হত্যার এই খেলা চলছে? প্রশ্ন তুলে সরাসরি আমজনতাকেই এর জবাব দেওয়ার ডাক দিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা।
জঙ্গলমহলের তপ্ত রোদেও এদিন উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পাথরকাটা ফুটবল মাঠ থেকে মমতা হুংকার দিয়ে বলেন, “বিজেপি জানে মানুষ ওদের ভোট দেবে না, তাই এখন তৃণমূলের ঘাঁটিগুলোতে পুনর্নির্বাচন করিয়ে ফল বদলানোর চক্রান্ত করছে। ওরা সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিনাশকারী।” মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, ভোটার কার্ড ছাড়া অন্য পরিচয়পত্রে ভোট দেওয়ার হার ২৫ শতাংশ পেরোলেই পুনর্নির্বাচনের যে নিয়ম কমিশন এনেছে, তা আসলে তৃণমূলকে রোখার একটি পরিকল্পিত কৌশল।
এক সময়ের অশান্ত জঙ্গলমহলে শান্তি ফেরানোর কারিগর হিসেবে মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এদিন ভিড় জমিয়েছিলেন মলিনা কিস্কু, দেবতোষ হেমব্রমদের মতো সাধারণ মানুষ। তাঁদের উদ্দেশে মমতার আবেগঘন বার্তা, “ওরা আমার সব ক্ষমতা কেড়ে নিলেও মানুষের শক্তি কেড়ে নিতে পারবে না। মা-বোনেদের বলছি, বাংলাকে বাঁচাতে ব্যালট বাক্স পাহারা দিন।”
গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া— একাধিক ইস্যুতে এদিন কেন্দ্রকে বিঁধেছেন তিনি। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যাঁদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার ফেরাতে আইনি লড়াই এবং ক্যাম্প করার পথে হাঁটবে রাজ্য সরকার। ২০২৪-এর সাফল্যের পর এবার কি জঙ্গলমহল আবারও মমতার ঝুলি ভরিয়ে দেবে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।