নির্বাচন কমিশনের জরুরি বৈঠক কি বাংলায় ভোটের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিচ্ছে

নির্বাচন কমিশনের জরুরি বৈঠক কি বাংলায় ভোটের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিচ্ছে

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচন কি তবে নির্দিষ্ট সময়ে হচ্ছে না? এই প্রশ্নটিই এখন জোরালো হয়ে উঠেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি তড়িঘড়ি ডাকা বৈঠককে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে রাজ্যের ভোট প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দিনক্ষণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

কমিশনের ডাকা এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে রাজ্যের শীর্ষ কর্তাদের। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ছাড়াও রাজ্যের মুখ্য সচিব ও পুলিশের মহানির্দেশক বা ডিজিপি-কে এই ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), কলকাতা পুলিশ কমিশনার সহ রাজ্যের সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদেরও এই বৈঠকে থাকার জন্য কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

দিল্লিতে থাকা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ এই ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি নেতৃত্ব দেবে। মূলত আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির হাল হকিকত জানতেই এই বৈঠক বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হলেও, রাজনৈতিক মহলে ভোটের সময়সীমা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপ নজিরবিহীন এবং যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আলাপচারিতার কেন্দ্রে রয়েছে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের এই উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল রাজ্যের জেলাওয়াড়ি পরিস্থিতি এবং স্পর্শকাতর বুথগুলির অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করতে পারে। ভোটের আগে পুলিশের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক রদবদল নিয়েও এই বৈঠকে বড়সড় সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কলকাতা এবং জেলা প্রশাসনের কর্তাদের নিয়ে একই ছাতার তলায় কমিশনের এই জরুরি বৈঠক মূলত চূড়ান্ত প্রস্তুতির রূপরেখা তৈরির জন্য। তবে বৈঠকের খবর চাউর হতেই জনমানসে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোটের তারিখ নিয়ে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কমিশনের ফুল বেঞ্চ সরাসরি তদারকিতে আসায় এটা স্পষ্ট যে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি রাখতে চাইছে না জাতীয় সংস্থা।

এখন দেখার, এই বৈঠকের পর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দিনক্ষণ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নতুন কোনো নির্দেশিকা আসে কি না। তবে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এমন তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলার ভোটের রণকৌশলে হয়তো বড় কোনো পরিবর্তন আসতে চলেছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির নজর এখন দিল্লির নির্বাচন সদন এবং নবান্নের এই যৌথ বৈঠকের ফলাফলের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *